রাজনীতি

আন্দোলন ছাড়া কোনো পথ নেই: বিরোধীদলীয় নেতা

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ‘ওয়াকআউট’ করার পর জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১টি দলের সমন্বয়ে তীব্র আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বুধবার(১ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ কক্ষের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সংসদে জনগণের সংস্কারের দাবি আদায় করতে না পারায় তারা এবার এই দাবি নিয়ে সরাসরি জনগণের কাছেই ফিরে যাবেন। ব্রিফিংয়ের সময় তার পাশে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

ওয়াকআউটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে কোনো প্রতিকার না পাওয়া এবং তাদের আনা প্রস্তাবটি চাপা দিতে নতুন আরেকটি প্রস্তাব উত্থাপনের প্রতিবাদেই তারা সংসদ বয়কট করেছেন। তিনি জানান, এর আগে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত তিনটি গণভোটের প্রতিটিতেই জনগণ তাদের দেওয়া রায় অনুযায়ী পরবর্তী সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ের সম্মতি এবং প্রচারণার পরও সেই রায়কে অগ্রাহ্য করে শেষ করে দেওয়া হয়েছে, যা কার্যত জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই পরিস্থিতি মেনে না নিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়েই তারা ওয়াকআউট করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

শফিকুর রহমান বলেন, যেহেতু সংসদের ভেতরে জনগণের অভিপ্রায় সম্মানিত ও গৃহীত হয়নি, তাই তাদের সামনে এখন একমাত্র পথ হলো যারা রায় দিয়েছিল, সেই জনগণের কাছেই ফিরে যাওয়া। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা কি আন্দোলন গড়ে তুলব? নিঃসন্দেহে। আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর পথ কী আছে! আন্দোলন আমরা করব, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করব।" তিনি আরও জানান, খুব দ্রুতই এই ১১টি দল একত্রে বসে পরবর্তী আন্দোলনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং গণভোটের দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করবে।

 

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের এই দাবিটি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য নয় বলে স্পষ্ট করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের ওপর যে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা বন্ধ করাই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল। 'জুলাই সনদে'র গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে বর্তমান সরকারি দলের ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সংস্কার এবং দেশের রাজনৈতিক চরিত্র পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা, তাকে নিয়মমাফিক চলতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের আগে সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং দুর্নীতি-দুঃশাসনবিরোধী অবস্থানে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এই ১১টি দল এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়েই তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন