আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি প্রদেশে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই হামলায় কাবুলে অন্তত চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খলিল জারদান জানিয়েছেন, বোমাবর্ষণে আবাসিক এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মর্মান্তিকভাবে নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ নিশ্চিত করেছেন, রাজধানী ছাড়াও দক্ষিণের কান্দাহার এবং পূর্বাঞ্চলের পাকটিয়া ও পাকটিকা প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। কান্দাহারে বিমানবন্দরের নিকটবর্তী একটি জ্বালানি ডিপোও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তাদের বাহিনী মূলত পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠী বা টিটিপিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে এবং এতে কোনো বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বিরাজমান পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে দুই পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির এসব দাবি যাচাই করা বেশ কঠিন।
এদিকে এ সংঘাতের জেরে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন (ইউনামা)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে আফগানিস্তানে অন্তত ৫৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৪ জনই শিশু। এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে প্রাণ বাঁচাতে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানোর পর থেকেই প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর জেরে পাকিস্তান তালেবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা দেয় এবং পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি কাবুলে বোমা হামলা চালায়। এরপর থেকেই মূলত সীমান্ত এলাকাজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এএমটি