আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম শিখরে। এই সামরিক অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সরকারের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ বলেন, "আমাদের সেনাবাহিনী যেকোনো শত্রুর আগ্রাসন নস্যাৎ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পুরো জাতি এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছে।" পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এই পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্ত এলাকায় আফগান বাহিনীর হামলার জবাবে পাকিস্তান রাতভর কাবুল ও কান্দাহারে বোমাবর্ষণ করে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী- তাদের হামলায় অন্তত ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং চার শতাধিক আহত হয়েছে। আফগান বাহিনীর ২৭টি চৌকি ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে, তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই দাবির বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং তারা পাকিস্তানের ১৯টি চৌকি দখল করেছে। তবে আফগান পক্ষে ৮ জন যোদ্ধা এবং ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের দেশে হামলা চালানো টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) যোদ্ধাদের আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও তালেবান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত কয়েক মাস ধরেই ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ চললেও, কাবুল ও কান্দাহারের মতো বড় শহরগুলোতে এবারের হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, এই পাল্টাপাল্টি হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান ইতিমধ্যেই ‘সংলাপের’ আহ্বান জানিয়েছে। তবে খাজা আসিফের ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’ ঘোষণার পর ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এসএফএল