আন্তর্জাতিক, এশিয়া

আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতে ৬১ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আফগানিস্তানে অবিরাম ভারী তুষারপাত ও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগের আঘাতে প্রায় ৪৫৮টি বাসগৃহ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আফগানিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ (এএনডিএমএ) হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত দেশটির মধ্য ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে আবহাওয়া পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে, যার ফলেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তুষারপাতের তীব্রতায় বেশ কয়েকটি প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এএনডিএমএ নিশ্চিত করেছে যে, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ১১০ জন আহত এবং ৪৫৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র জানান, এই বৈরী আবহাওয়ায় প্রায় ৩৬০টি পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এমতাবস্থায় তিনি সাধারণ জনগণকে বিশেষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তুষারাচ্ছন্ন ও বিপজ্জনক সড়কগুলোতে যাতায়াত না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে মুখপাত্র জানান, অধিকাংশ মানুষ মারা গেছেন ভারী তুষারের চাপে বাড়ির ছাদ ধসে পড়া এবং তুষারধসের কারণে। এছাড়া, তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় তীব্র ঠান্ডায় জমে গিয়েও অনেকের মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দুর্গম এলাকাগুলো থেকে নতুন তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারের পরিস্থিতি বেশ নাজুক। সেখানকার জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে একই পরিবারের ছয় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কান্দাহার ছাড়াও অন্যান্য জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও বাড়িঘর ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

আফগানিস্তানের জন্য এই দুর্যোগ নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত বছরের আগস্ট এবং নভেম্বরে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে গ্রামকে গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারান। ভূমিকম্পের সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে এই তুষারপাত দুর্গত মানুষের জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভূমিকম্পে যারা বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছেন, তীব্র শীতে তারা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

 

গত ডিসেম্বরে ইউনিসেফ সতর্ক করে জানিয়েছিল, ভূমিকম্প কবলিত এলাকার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার শিশু তীব্র শীতে প্রাণঘাতী রোগের গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, সহায়তার অভাবে চলতি বছরে আফগানিস্তানে অন্তত দুই কোটি মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হবে।

 

তথ্যসূত্র: ডন

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন