গত অক্টোবর থেকে চলা তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র পর গাজায় অন্যতম ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী দিন দেখল ফিলিস্তিনিরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকটি শিশু রয়েছে, যার মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীও আছে।
গাজা শহরের তুফফাহ এবং জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র গোলাবর্ষণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় নেওয়া তাঁবুতে হামলা চালিয়ে ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়াও আল-মাওয়াসি উপকূলীয় তাঁবু শিবিরে বিমান হামলায় আরও ২ জন নিহত হন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় নিহতদের একজন হলেন উদ্ধারকর্মী (ফার্স্ট রেসপন্ডার) হোসেন হাসান হোসেন আল-সুমাইরি।
খান ইউনিস থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তারেক আবু আজজুম জানান, গাজা শহরের আবাসিক বাড়িগুলোতে কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা ছাড়াই সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কথিত যুদ্ধবিরতি থাকার পরেও ফিলিস্তিনিরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পাচ্ছে না। আকাশে অনবরত ইসরায়েলি ড্রোন ওড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা আরও বড় হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় তাদের একজন রিজার্ভ অফিসার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর তারা সাঁজোয়া যান ও বিমান ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই অফিসার ‘ইয়েলো লাইন’ বা ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে রুটিন টহলে ছিলেন।
ডিবিসি/এমইউএ