জাতীয়

আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ঘরে ফেরার জন্য প্রস্তুত: ধর্ম উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ঘরে ফেরার জন্য প্রস্তুত।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

 

বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার এবং ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন।

 

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “একবার ক্ষমতায় বসতে পারলে ছলেবলে কৌশলে চেয়ার ধরে রাখার একটি দুঃখজনক প্রবণতা এদেশে রয়েছে। কিন্তু আমরা যেদিন দায়িত্ব নিয়েছি, সেদিন থেকেই বিদায়ের প্রস্তুতি রেখেছি। ইতোমধ্যে আমাদের অনেক উপদেষ্টা তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ (সারেন্ডার) করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছি—একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যাঁরা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁদের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করব।”

 

সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার অনুরোধ জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক মাইলফলক। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে দেশে আর কোনোদিন স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হবে না এবং আমরা দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারব।”

 

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিতে গেলে আপনাকে দুটি ব্যালট দেওয়া হবে—একটি সাদা এবং অন্যটি গোলাপি। সাদা ব্যালটের মাধ্যমে আপনি আপনার বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর গোলাপি ব্যালটের মাধ্যমে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন, সেই গাইডলাইন বা রূপরেখা আপনি ঠিক করে দেবেন।” এ সময় তিনি স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে সকলকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

 

জুলাই সনদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, “সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৫৪ বছরেও আমরা এই তিনটি লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। বিগত শাসনামলগুলোতে আমরা এমন সব শাসনের কবলে পড়েছিলাম, যা আমাদের কাম্য ছিল না। কখনও সংবিধানকে স্থগিত করে, আবার কখনও সংবিধানের দোহাই দিয়ে আমাদের ওপর নিপীড়নমূলক শাসন চালানো হয়েছে।” একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।

 

ডিবিসি/কেএলডি

আরও পড়ুন