আন্তর্জাতিক

আমাদের সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুদের জন্য নয়: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে ইরানের জব্দকৃত অর্থ ব্যবহারের যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র করছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ওয়াশিংটনের কোনো 'যুদ্ধের লুট' নয়, কিংবা মার্কিন মিত্রদের বিলিয়ে দেওয়ার কোনো তহবিলও নয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্যমতে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানি হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দলকে নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াশিংটন মূলত ইরানের জব্দকৃত এই অর্থ দিয়ে তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের অতীত ও ভবিষ্যতের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ভাবছে।

 

চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থকে লক্ষ্য করে ইরান বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। মার্কিন বাহিনীর দাবি, সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে। এই ঘটনায় কুয়েতে সামান্য ক্ষতি হলেও কোনো হতাহত হয়নি। তবে গবেষণা সংস্থা রাইস্টাড এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, এই সংকটে কেবল জ্বালানি খাতের অবকাঠামো মেরামতেই আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

 

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পদক্ষেপের চরম বিরোধিতা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা হস্তান্তর করা হলে তা নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আঞ্চলিক কোনো সরকারেরই ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার অধিকার নেই। বরং যেসব দেশ নিজেদের ভূখণ্ড ও সামরিক ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য মার্কিন বাহিনীকে ছেড়ে দিয়েছে, তাদেরই উচিত উল্টো ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ঘারিবাবাদীর মতে, আমেরিকার এমন উসকানিমূলক পদক্ষেপ চলমান শান্তি আলোচনাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে এবং ইরান এর চূড়ান্ত জবাব দেবে।


বর্তমানে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা চলছে, সেখানে তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি হলো যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা তাদের শত কোটি ডলার অবমুক্ত করা। যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে তারা স্থগিত সম্পদ ছাড় করার পাশাপাশি সব ধরনের মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভূ-কৌশলগতভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ কর্তৃত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দাবি করে আসছে।
 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন