আন্তর্জাতিক

আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে ইরান: নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, ইরান তার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তবে কবে, কোথায় বা কোন ছেলেকে লক্ষ্য করে এই কথিত চক্রান্ত করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর জোট যখন পিছিয়ে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, ঠিক তখনই সোমবার (২৪ আগস্ট) তিনি এই অভিযোগটি করলেন। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্য নিহত হন, যাদের মধ্যে তার মেয়ে বোশরা এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরাও ছিল।

 

দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর সাথে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার ছেলের বিরুদ্ধে কথিত এই ইরানি চক্রান্তের দাবি করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা যেখানে ইরান তার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে।

 

নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী পদে নেতানিয়াহুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইসেনকোটকে ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সংস্থা নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এর জবাবে কথা বলতে গিয়েই নেতানিয়াহু তার ছেলের প্রসঙ্গটি টানেন। তিনি আইসেনকোটের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পক্ষে মত দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয় এবং এটি না থাকলে ইরানিরা তাদের লক্ষ্য পূরণে সফল হয়ে যাবে।

 

নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, গত জুলাই মাসে তার স্ত্রী এবং দুই ছেলেকেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বর্ধিত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। তার ৩৫ বছর বয়সী বড় ছেলে ইয়াইর ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করছেন, যার নিরাপত্তা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ইসরায়েলে করদাতাদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

 

এদিকে, খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। আলী খামেনির মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর তার ছেলে মোজতাবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মোজতাবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি, তবে বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন