সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ড্রোন হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনার সাথে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে ইরান। মঙ্গলবার (৫ মে) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি ইরানের কোনো পূর্বপরিকল্পিত হামলা নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘দুঃসাহসিকতার’ ফল।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উল্লিখিত তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার কোনো কর্মসূচি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ছিল না। যা ঘটেছে তা মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর হঠকারিতা; যার মাধ্যমে তারা হরমুজ প্রণালির সংরক্ষিত জলপথ দিয়ে অবৈধভাবে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করতে চেয়েছিল।’ এই ঘটনার জন্য মার্কিন বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শক্তি প্রয়োগের অনুচিত প্রথা বন্ধ করে আমেরিকার উচিত এই সংবেদনশীল অঞ্চলে সামরিক দুঃসাহসিকতা থামানো, কারণ এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘নতুন সমীকরণ’ তৈরি হচ্ছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের মাধ্যমে নৌ-নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
গালিবাফ আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে। মার্কিন প্রশাসনের এই ‘অপকর্ম’ অচিরেই প্রশমিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইরান এখনও পর্যন্ত কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া শুরুই করেনি।’ তেহরানের পক্ষ থেকে এমন সময়ে এই বক্তব্য এলো যখন হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এফএইচআর