আন্তর্জাতিক

আমিরাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের অপরাধের দায় বাবা-মায়ের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান অপরাধ করলে, বিশেষ পরিস্থিতিতে তার বাবা-মাকেও আইনি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে। তবে সন্তানের অপরাধের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবকদের শাস্তি দেওয়া হয় না; বরং সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে আইন বিশেষজ্ঞদের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

অনেকেই মনে করেন, সন্তান অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার অপরাধের দায়ভার অভিভাবকদের ওপর বর্তায় না। তবে আইনজীবী আসমা সিদ্দিকীর মতে, যদি কোনো অভিভাবক সন্তানের প্রতি অবহেলা করেন, তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেন, অপরাধে উৎসাহ জোগান বা আদালতের নির্দেশিত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া মানতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, দেশটির দেওয়ানি লেনদেন আইন অনুযায়ী, সন্তানের কর্মকাণ্ডে অন্য কারও ক্ষতি হলে অভিভাবককে আর্থিকভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। অবশ্য, অভিভাবকরা যদি প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে তারা সন্তানের যথাযথ তদারকি করেছেন, তবে তারা এই দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

 

দৃষ্টান্তস্বরূপ, সম্প্রতি আল আইনের একটি দেওয়ানি আদালত স্ন্যাপচ্যাটে হুমকির ঘটনায় এক অপ্রাপ্তবয়স্কের অভিভাবককে তিন হাজার দিরহাম ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে। ফেডারেল আইন অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দায়ী করা যায় না; তবে সরকারি কৌঁসুলি চাইলে তাকে নজরদারি বা পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। শিশু ফৌজদারি দায়মুক্তি পেলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অভিভাবকের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করতে পারেন। সন্তানের প্রতি অবহেলা বা যথাযথ তদারকির অভাবে কারাদণ্ড বা কমপক্ষে পাঁচ হাজার দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে। কিশোরদের অপরাধে প্ররোচিত করলে এই শাস্তি বেড়ে কারাদণ্ডসহ কমপক্ষে ৫০ হাজার দিরহাম জরিমানা হতে পারে, এমনকি বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশও আসতে পারে।

 

গত মাসে শারজাহে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই কিশোরীর বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। এই প্রেক্ষাপটে আইন বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি সন্তানের বয়স অনুযায়ী নিয়মিত তদারকি, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থার প্রমাণ সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, আমিরাতের আইন কেবল শাস্তির জন্যই নয়, বরং শিশু, অভিভাবক এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকলের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই প্রণীত।


ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন