নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়, যার ফলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন। চার বছর আগে লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতিয়ে আনন্দাশ্রুতে ভাসা কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখে এবার ছিল শুধুই বিষাদের জল।
রবিবারের (১০ জুলাই) এই হৃদয়ভাঙা হারের পর ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্কালোনি। শিরোপা হারানোর তীব্র যন্ত্রণা বুকে চেপেও তিনি স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব অকপটে স্বীকার করে নেন। ফাইনালে হারের পেছনে কোনো অজুহাত দাঁড় না করিয়ে তিনি জানান, তাঁর খেলোয়াড়েরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে লড়েছেন। আবেগাপ্লুত স্কালোনি বলেন, কষ্ট পেলেও তিনি জানেন ছেলেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং এই দলটার প্রতি তিনি চিরকৃতজ্ঞ। জয়ের মতো পরাজয়ের সময়ও বড় মানসিকতা দেখানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ স্পেনই ভালো খেলেছে এবং ফাইনালে একটি হার যেন টুর্নামেন্টজুড়ে দলের এত বড় অর্জনকে কোনোভাবেই ম্লান করে না দেয়। দেশের সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি শুধু এটুকুই বলেছেন যে, তারা মাঠে নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে লড়েছেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে এই হারের পর জাতীয় দলের ডাগআউটে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে গেছেন আর্জেন্টিনার কোচ। চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চললেও কোচ হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। চোখে অশ্রু নিয়ে স্কালোনি জানান, লিওনেল মেসির সঙ্গে এখনো তাঁর কথা হয়নি, তবে নিজের ভবিষ্যতের বিষয়ে তিনি এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, তিনি কী করতে চান সে বিষয়ে একটা ধারণা থাকলেও, আপাতত চুক্তির মেয়াদ পূরণ করবেন এবং এরপর কী হবে তা সময়ই বলে দেবে। এর চেয়ে বড় কিছু তিনি করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে তিনি জানান যে তাঁর কিছুটা সময় নিয়ে ভাবার প্রয়োজন আছে।
উল্লেখ্য, স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার সঙ্গে চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ইতিবাচক আলোচনা চললেও, ফাইনাল শেষে স্কালোনির এমন আবেগঘন মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত মেলে যে, আন্তর্জাতিক মৌসুম শেষ হওয়ার পরই হয়তো তাঁর ডাগআউটে থাকা না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।
ডিবিসি/এফএইচআর