আন্তর্জাতিক

আমি মূল্যস্ফীতি পছন্দ করি: ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড়!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানযুদ্ধের কারণে পণ্যমূল্য বাড়তে থাকার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্যকে এক প্রকার লুফে নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মূল্যস্ফীতি ‘পছন্দ’ করেন। সেই সাথে তিনি তাঁর আগের বিশ্বাসের পুনরাবৃত্তি করে জানান, চলমান ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়া মাত্রই পণ্যের দাম আবার কমে যাবে।

হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে ‘সিকিউর আমেরিকা অ্যাক্ট’ স্বাক্ষরের পর দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বর্ধিত খরচ এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মাঝে হরমূজ প্রণালী দিয়ে গোপনে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের একটি পরিকল্পনায় কীভাবে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন, তা ব্যাখ্যা করেন। এই অভিযানকে সফল দাবি করে তিনি বলেন, "আমার হিসাব অনুযায়ী এটি সার্থক ছিল।" সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "যখন এটি শেষ হবে, তখন আপনারা তেলকে আগের দামে ফিরে যেতে দেখবেন। দাম কমছে এবং এটি পাথরের মতো হুড়মুড় করে নিচে নেমে আসবে।" ট্রাম্প এই ইরান যুদ্ধকে একটি সাময়িক পথ পরিবর্তন বা ভিন্ন পথ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে ফ্রেমবন্দি করেছেন। কারণ তেহরান কর্তৃক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করে দেওয়ায় গ্যাসোলিন, সার এবং অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে গেছে, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

 

উচ্চ মূল্যের কারণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানো থেকে বিরত থাকতে পারে। সুদের হার কমলে ঋণ নেওয়ার খরচ কমে আসত, যা গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছিলেন। বর্তমানে রিপাবলিকানরা মার্কিন প্রতিনিধি সভা এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছে, তবে জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের প্রধান সমস্যা হওয়ায় ভোক্তাদের ক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যেতে পারে বলে তারা উদ্বিগ্ন। ট্রাম্প মূলত মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু এরপর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন কারণে তাঁর জনপ্রিয়তার রেটিং রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

 

পণ্য পরিবহনের জন্য হরমূজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টা এ পর্যন্ত স্থবির হয়ে আছে। শিল্প খাতের নির্বাহী ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দামের আরেকটি তীব্র ধাক্কা আসতে পারে, যা সামগ্রিক আর্থিক বাজারকে কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ট্রাম্প এবং তেহরান যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছায়ও, তাহলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে এবং এই বিঘ্ন ২০২৬ সালজুড়ে বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও আমেরিকানরা অন্যান্য দেশের তুলনায় জ্বালানির এই ধাক্কা থেকে কিছুটা নিরাপদ, তবুও ক্রমাগত উচ্চ জ্বালানি মূল্য দীর্ঘ মেয়াদে তাদের ভোক্তা ব্যয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গত মাসে মার্কিন নাগরিকদের অর্থনৈতিক লড়াইয়ের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে এবং ইরানের ওপর নতুন করে হামলার হুমকি বহাল রেখে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবি না। আমি কারও কথা ভাবি না। আমি কেবল একটি জিনিসই ভাবি: আমরা ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দিতে পারি না।’

 

সূত্র: রয়টার্স


ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন