বিবিধ

আমেরিকার এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোনের বাস্তব সক্ষমতা!

সিরাজুর রহমান

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বর্তমানে পশ্চিমা মিডিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং ডেডিকেটেড কমব্যাট ড্রোন (ইউসিএভি) হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোনকে বিশেষভাবে প্রচার করা হয়। মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল অ্যাটমিক্স অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেম কোম্পানির তৈরি যুদ্ধ পরীক্ষিত এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট প্রথম সার্ভিসে আসে ২০০৭ সালে।

যুক্তরাষ্ট্র এর প্রোডাকশন লাইন চালু করার পর থেকে এখনও পর্যন্ত হয়তো প্রায় ৫৫০টির অধিক বিভিন্ন সিরিজের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন (ইউসিএভি) তৈরি করেছে, যার অধিকাংশই অপারেট করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এছাড়া, আমেরিকার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, জাপান, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, পোল্যান্ড ও ভারতও সীমিত সংখ্যক এই জাতীয় শক্তিশালী কমব্যাট ড্রোন অপারেট করে।

 

প্রায় ১,৭০০ কেজি পেলোড বহনে সক্ষম এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোনের সর্বোচ্চ রেঞ্জ ১,৯০০ কিলোমিটার এবং পরীক্ষিত গতি প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৮২ কিলোমিটার। এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোন একটানা ২৭ ঘণ্টা মিশন পরিচালনা করতে পারে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া অনুযায়ী এই জাতীয় কমব্যাট ড্রোনের পার ইউনিট কস্ট হতে পারে প্রায় ২৮-৩০ মিলিয়ন ডলার।  

 

বিশ্বের সেরা উন্নত প্রযুক্তি হিসেবে এতে এএন-ডিএএস-১ এমটিএস-বি মাল্টি-স্পেকট্রাল টার্গেটিং সিস্টেম ও এএন-এপিওয়াই-৮ লিংক্স ২ রাডার সংযুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে এটি একসঙ্গে প্রায় ১৬টি হালকা ও শর্ট রেঞ্জের হেলফায়ার মিসাইল বহন করতে সক্ষম। এছাড়া, এটিকে নজরদারি এবং স্পাই মিশনের জন্য বিশেষ সেন্সর ও ইমেজিং প্রযুক্তি দ্বারা এটিকে সজ্জিত করা হয়েছে।

 

তবে, আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের সাথে চলা প্রায় ৫১ দিনের যুদ্ধ কিংবা সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট প্রায় ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোন ধ্বংস বা ভূপাতিত করেছে ইরান। এছাড়া, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ৯ এপ্রিল, ২০২৬-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ১ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত আটটি এই জাতীয় ড্রোন ধ্বংস হয়। সে হিসেবে এই যুদ্ধে এমকিউ-৯ ড্রোনের মোট ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৭০০-৭২০ মিলিয়ন ডলার।

 

পশ্চিমা মিডিয়ায় এমকিউ-৯ রিপার বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী কমব্যাট ড্রোন হিসেবে প্রচার করা হলেও, বাস্তবে আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে এটি যথেষ্ট টেকসই ও কার্যকর নয় বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন। ড্রোনটি মূলত ছোট আকারের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে শত্রু দেশের আকাশসীমা তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত কিংবা অনেকটাই প্রতিরক্ষাহীন থাকে।

 

পরিশেষে বলা যায়, সার্ভিসে আসার পর থেকে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের একাধিক রণাঙ্গনে সফল ব্যবহারের অসংখ্য রেকর্ড খুঁজে পাওয়া গেলেও, বাস্তবে এটি কিন্তু অতি মাত্রায় সামরিক সক্ষমতা সম্পন্ন কোনো দেশের বিরুদ্ধে কখনোই ব্যবহার করা হয়নি। আর এবার কিনা প্রথম বারের মতো ইরানের মতো মধ্যম সামরিক সক্ষমতা সম্পন্ন দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করতে গিয়ে এর বাস্তব প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও দূর্বলতা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।

 

লেখক: সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও লেখক।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন