আন্তর্জাতিক, আরব

আমেরিকার সাথে চুক্তি এখন সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে: আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তি এখন সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) আরাগচির দেওয়া এই পোস্টটি ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যে সম্ভাব্য যুগান্তকারী চুক্তির আভাস দিয়ে আসছিল, তা এবার বাস্তবে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


শুক্রবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি অবশ্য জোর দিয়ে বলেন যে, চুক্তিতে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করা হয়নি। তিনি জানান, বিবেচনাধীন চুক্তিটি মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে: প্রথম ধাপ: একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। দ্বিতীয় ধাপ: বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা।


প্রথম ধাপের অধীনে লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানসহ সব ধরনের যুদ্ধ ও আক্রমণ বন্ধ হবে এবং পুনরায় হামলা না করার প্রতিশ্রুতি থাকবে।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ বা তহবিল মুক্ত করার মতো বিষয়গুলো চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের সার্বভৌমত্বেই থাকবে, তবে এর ভবিষ্যৎ প্রশাসন অতীতের চেয়ে ভিন্ন হবে।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি গভীর অনাস্থার কথা উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকটি এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চলমান পারমাণবিক আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে দুইবার আক্রমণ চালিয়েছিল।


এদিকে ইরানের সংসদ স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্স-এ একটি রহস্যময় বার্তা দিয়েছেন। তিনি লেখেন, যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। কোনো যদি, কিন্তু বা অজুহাত চলবে না। সামনে যে চুক্তিটি রয়েছে, তার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। যেমন কর্ম, তেমন ফল।


ওয়াশিংটনে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তিটি এখনো শেষ লাইনে পৌঁছায়নি, তবে আমরা খুব কাছাকাছি আছি।


ঐ কর্মকর্তা জানান, সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তর করতে হবে। এর বিনিময়ে ইরান উল্লেখযোগ্য নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি এবং তাদের অবরুদ্ধ সম্পদ ফিরে পাবে।


তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই ইরান কোনো সুবিধা পাবে না। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তহবিল ছাড়ের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের শর্ত মেনে চলার ওপর নির্ভর করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।


মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে ঐ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক চুক্তি হলেই ইরানের কোনো ফ্রিজ করা সম্পদ অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া হবে না।


এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কিছু সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যেখানে চুক্তির কিছু গোপন শর্ত ফাঁসের দাবি করা হয়েছিল।


ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-র একটি রিপোর্টের জবাবে ট্রাম্প এই প্রতিক্রিয়া দেখান। ইরনা তাদের রিপোর্টে সাতটি মূল পয়েন্ট উল্লেখ করে দাবি করেছিল যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান কোনো নতুন ছাড় দেয়নি এবং চুক্তি হলেই ইরানের কিছু সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করা হবে।


সূত্র: আল জাজিরা


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন