বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আজ শনিবার (৪ জুলাই) এক ঐতিহাসিক বৈপরীত্যের সাক্ষী হয়ে থাকল। আটলান্টিকের এক প্রান্তে যখন আতশবাজির ঝলকানিতে আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের বর্ণিল উদযাপন চলছে, ঠিক তখন মধ্যপ্রাচ্যের আরেক প্রান্তে শোকের চাদরে ঢাকা তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবারের ৪ জুলাই অন্য যে-কোনো সময়ের চেয়ে একেবারেই আলাদা। ১৭৭৬ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে যে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, আজ তার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক, টেক্সাস, লস অ্যাঞ্জেলেস-সহ পুরো আমেরিকা সেজেছে লাল-নীল-সাদা উৎসবের সাজে।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে দিনটি পার করছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম দিকের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির কারণে এতদিন তার আনুষ্ঠানিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া স্থগিত থাকলেও বর্তমানে তার রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সমবেত হয়েছেন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে ইরানের সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিদেশি প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে দীর্ঘ আড়াইশো বছরের স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার অপার অনন্দ ও গৌরবে মেতেছে ইরানেরই চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্র।
ইতিহাসের পাতায় একই দিনের এই দুটি ঘটনা কেবল দুটি ভিন্ন দেশের চিত্রই নয়, বরং আদর্শিক ও রাজনৈতিক এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রতীক হয়ে রইল।
ডিবিসি/এসএস