যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের চাপ ও অযৌক্তিক দাবির কাছে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরানের আলোচকরা দেশের জনগণের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করবেন।
সোমবার (২৫ মে) তেহরানে চেম্বার অব কমার্সের সদস্যদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর শত্রু রাষ্ট্রগুলো এখন ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ জোরদার করেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো অবস্থাতেই মার্কিন প্রশাসনের অন্যায় চাপ ও অযৌক্তিক দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। সরকার এবং দেশের বেসরকারি খাত পারস্পরিক সংহতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে শত্রুর এই অর্থনৈতিক যুদ্ধকেও সফলভাবে মোকাবিলা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে প্রায় ১০০ দফায় পাল্টা আক্রমণ চালায়, যা মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং বর্তমানে ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা চলছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমেরিকার সাথে এই পরোক্ষ আলোচনা শুধুমাত্র সব ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধ করার বিষয়টির ওপর কেন্দ্র করে চলছে। এর সাথে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা বা পরমাণু কর্মসূচির মতো বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
দেশের এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। তিনি তাদেরকে এই হাইব্রিড যুদ্ধের সম্মুখভাগের যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেনি। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের উৎপাদক ও ব্যবসায়ী সমাজের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল