ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন চরম রূপ নিয়েছে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কঠোর হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো এখন থেকে ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় তেহরান যেকোনো পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। আমিরাতের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত মার্কিন শত্রুদের আস্তানা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত বন্দর ও ডক, সেনা ছাউনিগুলোর ওপর সরাসরি আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।
হামলার আশঙ্কায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ইরান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বেসামরিক নাগরিকরা যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা, বন্দর এবং ডক এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। বিশেষ করে জনবহুল এলাকার বাসিন্দাদের এসব ‘লক্ষ্যবস্তু’ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর খারগ দ্বীপে মার্কিন হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তেহরান মনে করছে, আমিরাতের মাটি ব্যবহার করেই মার্কিন বাহিনী ইরানের স্বার্থে আঘাত হানছে, যার প্রতিশোধ নিতে এখন সরাসরি আমিরাতের ওপর হামলার হুমকি দিচ্ছে তারা। এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: এএফপি
ডিবিসি/এসএফএল