পার্থিব পাপ মোচন ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মিনা থেকে হজযাত্রীদের ঢল এখন ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে। মঙ্গলবার (২৬ মে) ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক...’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির...) ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে এই পবিত্র প্রান্তর।
জিলহজ মাসের নবম দিনে ‘ওকুফে আরাফাহ’ বা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের প্রধান স্তম্ভ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘হজ হলো আরাফাহ’। গত সোমবার মিনার তাঁবুর নগরীতে ‘তারবিয়াহর দিন’ কাটিয়ে আজ ফজর থেকেই হাজিরা এখানে আসতে শুরু করেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা ইবাদত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং কাতর কণ্ঠে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি পার করবেন। দুপুরের দিকে আরাফাতে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা দেবেন মসজিদে নববির ইমাম। ধর্মীয় দিকনির্দেশনামূলক এই খুতবা শোনার পর হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে কসর করে আদায় করবেন।
ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্যে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই উন্মুক্ত প্রান্তর এবং এখানকার ‘জাবাল আল-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড় আদি পিতা-মাতা আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। এখানেই ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) ন্যায়বিচার, সমতা ও জীবনের পবিত্রতার নীতি ঘোষণা করেছিলেন। ইসলামী বিশ্বাস ও হাদিস অনুযায়ী, আরাফাতের দিনে আল্লাহ এত বেশি সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন, যা অন্য কোনো দিনে দেন না।
এদিকে, ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রার কারণে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হাজিদের প্রচুর পানি পান করতে, ছাতা ব্যবহার করতে এবং সরাসরি রোদে দীর্ঘক্ষণ না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে শীতল পরশ পেতে অনেককেই জাবাল আল-রাহমাহ সংলগ্ন এলাকায় পানি ছিটানো পাখার নিচে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলসহ সার্বিক নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি রেখেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে কসর হিসেবে আদায় করবেন এবং খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন—যা হজের অন্যতম ওয়াজিব। ফজর নামাজের পর শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য সেখান থেকে সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন তারা। এরপর ১০ জিলহজ সকালে মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং ইহরামের সেলাইবিহীন কাপড় বদলানোর মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।
ডিবিসি/এফএইচআর