ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয়ের পর রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয়ের পর উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং বদলি খেলোয়াড় জিওভানি লো সেলসো মাঠে একটি ব্যানার তুলে ধরেন। ওই ব্যানারে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল "লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস", যার অর্থ "ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার"।
ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, ক্রীড়া ইভেন্টে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ফিফার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি বর্তমানে ম্যাচ রিপোর্টগুলো মূল্যায়ন করছে এবং শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পরিস্থিতি বিবেচনা করছে। নিয়ম ভঙ্গের এই ঘটনায় আর্জেন্টিনা দল বা ফুটবল ফেডারেশনকে বিচারের আওতায় আনতে পারে ফিফা।
রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের জন্য ফিফায় সাধারণত ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের আগেও একই স্লোগান সংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনাকে ৩৭ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। আগামী রবিবার নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ফাইনাল খেলবে আর্জেন্টিনা।
এই ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় যুক্তরাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা অবিলম্বে এর তদন্তের জন্য ফিফাকে আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল এটিকে ফিফার নিয়মের "চরম লঙ্ঘন" হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, রাজনীতিকে অবশ্যই ফুটবল থেকে আলাদা রাখতে হবে। যুক্তরাজ্যের ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বকাপ তাদের না হলেও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাজ্যের এবং এর ওপর তাদের অধিকার কখনোই টলবে না।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই খেলোয়াড়দের এই কাজকে "সম্পূর্ণ বৈধ" বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই বার্তা সব আর্জেন্টিনাবাসীর আবেগের প্রতিফলন। তবে আবেগের বশবর্তী হয়ে করা এই কাজের কারণে দলকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। ম্যাচের আগেই আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়ারুয়েল ইংরেজদের "দখলদার জলদস্যু" বলে মন্তব্য করে উত্তেজনা বাড়িয়েছিলেন। এছাড়া সেমিফাইনালের জয়ের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজের অবৈধ উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বুয়েনস আইরেস।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আটলান্টিকের ব্রিটিশ উপদ্বীপ ফকল্যান্ডসের দখল নিয়ে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে এক সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিহত হন এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। তবে আর্জেন্টিনা এখনও দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে।
ডিবিসি/আরএসএল