বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে দেখানো লাল কার্ডটি যে ভুল ছিল, তা নিশ্চিত করেছে ফুটবলের নিয়মকানুন নির্ধারক সংস্থা আইএফএবি। ম্যাচ রেফারিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক নতুন নির্দেশনায় সংস্থাটি জানিয়েছে, সেদিনের ম্যাচে এম্বোলোকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া একেবারেই উচিত হয়নি।
কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত সেই কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড ১-১ গোলে সমতা ফেরানোর কিছুক্ষণ পর, ম্যাচের ৭২ মিনিটে বিতর্কিত ওই ঘটনাটি ঘটে। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারাদেসের বাধায় এম্বোলো মাঠে পড়ে গেলে রেফারি প্রথমে পারাদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু পরবর্তীতে ভিএআর-এর মাধ্যমে রেফারি জানতে পারেন পারাদেস কোনো ফাউল করেননি। এরপরই সিদ্ধান্ত পাল্টে ফাউলের অভিনয়ের (সিমুলেশন) অভিযোগে কাঁদতে থাকা এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের খেলাটা নষ্ট হয়েছে এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জুরিখভিত্তিক সংস্থা আইএফএবি স্পষ্ট করেছে যে, ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ (মিসটেকেন আইডেন্টিটি) সংক্রান্ত ভিএআর নিয়মটি এম্বোলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না। এই নিয়মের বর্তমান উদ্দেশ্য হলো, মূল ফাউলকারীকে কার্ড না দিয়ে ভুল করে অন্য কাউকে কার্ড দেওয়া হলে কেবল তা সংশোধন করা। ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে শুধু ফাউলকারী সঠিক খেলোয়াড়কে শনাক্ত করা যায়, কিন্তু মূল অপরাধটি কী ছিল তা পরিবর্তন বা পর্যালোচনা করা যায় না। গত মার্চ থেকে ভিএআর প্রোটোকল নিয়ে কাজ করা আইএফএবি জানিয়েছে, চলমান নিয়ম পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি ভবিষ্যতে এভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।
মূলত বিশ্বকাপের আগেই এই নিয়মটির পরিধি বাড়ানোর ফলে রেফারিরা খেলা চলাকালে স্পষ্ট ভুল সংশোধনে ভিএআর কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাড়তি ক্ষমতা পেয়েছিলেন, যেখান থেকেই এই বিভ্রান্তির সূত্রপাত। এর আগে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচেও টিম রিমের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করে ডাইভ দেওয়ার অভিযোগে মিগুয়েল আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে একই ব্যাখ্যার প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে আইএফএবি তাদের বিবৃতিতে এ কথাও উল্লেখ করেছে যে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় বন্ধে এই ধারাটির ব্যবহার বেশ প্রশংসিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ফিফা মনোনীত কর্মকর্তা এবং ব্রিটিশ ফুটবলের চারটি ফেডারেশন নিয়ে গঠিত আইএফএবি প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে তাদের বার্ষিক সাধারণ সভায় ফুটবলের নিয়মকানুন হালনাগাদ করে থাকে।
ডিবিসি/এফএইচআর