আন্তর্জাতিক

আর মাত্র ৬ সপ্তাহ চলার মতো জেট ফুয়েল আছে ইউরোপে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যা মহাদেশটির বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ইউরোপের হাতে বর্তমানে যে পরিমাণ জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে, তা দিয়ে বড়জোর আর মাত্র ছয় সপ্তাহ কাজ চালানো সম্ভব হতে পারে।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিরোল জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় না ফিরলে বড় আকারের ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে খুব শিগগিরই এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যাবে।

 

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের ফলে বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আগের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

 

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাভাবিক অবস্থায় বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলো ছয় সপ্তাহের জ্বালানি মজুত রাখলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই অতিরিক্ত মজুত এখন শেষ পর্যায়ে। যদিও গত কয়েক সপ্তাহ আগের পাঠানো চালানগুলো পৌঁছানোর ফলে সরবরাহ কিছুটা বজায় ছিল, তবে সর্বশেষ চালানটি ইতোমধ্যেই ইউরোপে পৌঁছে গেছে। ফলে নতুন কোনো চালান না আসা পর্যন্ত ইউরোপ এখন তিন থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে বড় ধরনের জ্বালানি ঘাটতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে এয়ারপোর্ট কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল ও আইইএ ঐকমত্য পোষণ করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিকল্প হিসেবে অন্য সরবরাহকারীদের এই বিপুল চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন