আর মাত্র ৭ ঘণ্টা পর রাত পোহালেই শুরু হতে যাচ্ছে দেশের বহুল আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমগ্র দেশজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়, যেখানে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, ভোটের দিন মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত থাকছেন প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য, যার মধ্যে পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত।
এত বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, লুণ্ঠিত ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং জমা না দেওয়া বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা ভোটের মাঠে সহিংসতা উস্কে দিতে পারে। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যেও এ নিয়ে ভীতি বিরাজ করছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ, এই তিন ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্যের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে এবারই প্রথম ব্যাপকভাবে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করার পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ক্যাম্প স্থাপন ও টহল শুরু করেছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে এবং একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশায় তারা বদ্ধপরিকর।
ডিবিসি/এফএইচআর