আন্তর্জাতিক

আলোচনা নয়, ভরসা মিসাইলেই: যুদ্ধের ১০০ দিনে ইরানের বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো স্থায়ী সমাধানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং ধ্বংসস্তূপ ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান কর্তৃপক্ষ। এই দীর্ঘ সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও।

রাজধানী তেহরানের বেশির ভাগ দোকানপাট খুললেও ক্রেতার সংখ্যা আগের মতো নেই। গত কয়েক মাস ধরে চলা দেশব্যাপী বিক্ষোভ, বিমান হামলা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে দুইবার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে শহরের স্বাভাবিক যানজট আংশিকভাবে ফিরেছে। প্রায় এক কোটি মানুষের এই মহানগরে সার্বক্ষণিক সাঁজোয়া যান, ভারী অস্ত্র ও নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি এখন নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য। রাতে সরকার-সমর্থকদের মোটরবাইকের মহড়ায় নিরাপত্তাবাহিনী প্রহরা দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে উঠছে শহরের মূল সড়কগুলো। লেবাননের হিজবুল্লাহসহ 'প্রতিরোধ অক্ষের' পতাকা এবং সরকার-সমর্থিত প্রচারণায় ছেয়ে গেছে তেহরানের রাস্তাঘাট।

 

যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্য নিহত হন। এরপর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়। একই হামলায় আহত মোজতবা খামেনিকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি, কেবল তাঁর নামে কিছু লিখিত বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি ও গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় দীর্ঘ ৩৭ বছর দেশ শাসন করা আলী খামেনির শেষকৃত্যও এখনো সম্পন্ন হয়নি। গুপ্তহত্যার আতঙ্কে বন্ধ রয়েছে দেশের পার্লামেন্ট এবং স্কুল-কলেজগুলো। এত কিছুর পরও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এবং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মতো প্রভাবশালী বাহিনীগুলো তাদের ক্ষমতা ধরে রেখেছে। মার্কিন অবরোধের মুখেও তারা হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি ও পণ্য চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে চলেছে।

 

টানা ৪০ দিনের তীব্র যুদ্ধ এবং হাজার হাজার বিমান হামলার পর কয়েক মাসের উত্তেজনাপূর্ণ 'যুদ্ধবিরতি' চললেও, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাতে নিয়মিত গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এই সংঘাত নিরসনে এবং কৌশলগত জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এমন পরিস্থিতিতে গত রোববার তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হিজবুল্লাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, খামেনি কর্তৃক নিযুক্ত সম্পাদকের পরিচালিত ইরানের কট্টরপন্থী পত্রিকা 'কায়হান' এক সম্পাদকীয়তে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছে, আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং মিসাইলের কারণেই আমেরিকা পিছু হটেছে। সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান এখনো ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলের পাশাপাশি ড্রোন হামলায় সক্ষম।

 

যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তেল ও গ্যাস স্থাপনা এবং শিল্পকারখানাগুলো বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত ২১ মে শেষ হওয়া ফার্সি ক্যালেন্ডারের দ্বিতীয় মাসে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৮৪ শতাংশ, যেখানে শুধু খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ছুঁয়েছে ১৩০ শতাংশে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ভোজ্যতেলের দাম ৪৩১ শতাংশ, ডিম ৩৪২ শতাংশ, মুরগি ২৮৭ শতাংশ এবং আমদানি করা চালের দাম ২২২ শতাংশ বেড়েছে। খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রার মান রেকর্ড পরিমাণ কমে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা আংশিক চালু হলেও তার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে সরকার। এর পাশাপাশি, চলমান যুদ্ধ ও বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রায় প্রতিদিনই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে এবং কঠোর গুপ্তচরবৃত্তি আইনের আওতায় আরও হাজার হাজার বন্দি শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন