জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ আজ বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায় ঘোষণার সময় আট আসামি ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর সংক্ষিপ্ত রায় পড়ে শোনান।
চাঞ্চল্যকর এ মামলার মোট ১৬ আসামির মধ্যে আটজন পলাতক এবং আটজন কারাগারে রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। মামলার অন্য পলাতক আসামিরা হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
অন্যদিকে রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা আট আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল। এদের মধ্যে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় শহীদ হন সাতজন। তারা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম। এই নৃশংস হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশন পক্ষ ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র ও ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে। গত বছরের ২১ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছিল, যার চূড়ান্ত রায় আজ ঘোষিত হলো।
ডিবিসি/পিআরএএন