ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জন প্রার্থীকে মনোনীত করেছে বিএনপি। তবে দলটির মনোনীত এসব প্রার্থীর মধ্যে দুজন সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠায় সব মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাধবী মারমা ও সুবর্ণা সিকদার ঠাকুরসহ মোট ৩৬ জনের নাম প্রকাশ করেনপ্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নাম ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় পর্যায়ে ওই দুই প্রার্থীকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
জানা গেছে, বান্দরবান জেলা বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়া অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা একসময় আওয়ামী লীগের হয়ে ফৌজদারি মামলায় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির দলীয় কার্যক্রমে তাঁর তেমন সক্রিয়তা ছিল না, পাশাপাশি দলে তাঁর কোনো পদবিও নেই বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
অপরদিকে, বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় স্থান পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর। তিনিও বিএনপির ঘোষিত চূড়ান্ত তালিকার ২০ নম্বর অবস্থানে রয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে এই দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। ভিন্ন মতাদর্শের দলের সঙ্গে অতীত ও বর্তমান সম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি দলের কোনো কৌশলগত সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ।
অবশ্য এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে মনোনীত ওই দুই প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ ধরনের মনোনয়ন ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দলীয় প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় নতুন বাস্তবতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হতে পারে।
ডিবিসি/কেএলডি