যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সের লুইস শহরের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে ঘটা এই দুর্ঘটনার পর লাইনচ্যুত বগিগুলো উল্টে যায় এবং যাত্রীরা ভেতরে আটকা পড়েন। সাউথ ইস্ট কোস্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। বাকি ১৬ জন তুলনামূলক কম আঘাত পেয়েছেন। অধিকতর চিকিৎসার জন্য তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল ইয়ান ড্রামন্ড-স্মিথ এই দুর্ঘটনাকে একটি ‘বড় ধরনের ঘটনা’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, ট্রেনে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন এবং ইতোমধ্যে তাদের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকাজে তিনটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, দশটি ফায়ার ইঞ্জিন এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মী অংশ নেন। যেসব যাত্রীর হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি, তাদের সহায়তার জন্য কাছাকাছি একটি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের যোগাযোগমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ড্রোন ফুটেজে দেখা যায়, ট্রেনের শেষ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে একপাশে কাত হয়ে পড়ে আছে এবং যাত্রীরা উল্টে থাকা বগির ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। লন্ডন থেকে লুইসগামী ওই ট্রেনের যাত্রী ৫৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ইয়ানা লুডউইগ এই অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, প্রচণ্ড শব্দের পর সবকিছু উলটপালট হয়ে যায় এবং বগিটি কাত হয়ে পড়ার আগে অন্তত ১০ সেকেন্ড ধরে এমন ভীতিকর অবস্থা চলতে থাকে। জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত যাত্রীরা একে অপরের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লন্ডন ভিক্টোরিয়া থেকে ইস্টবোর্নগামী 'সাউদার্ন রেল'-এর ট্রেনটি ঠিক কী কারণে লাইনচ্যুত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাজ্যের রেল দুর্ঘটনা তদন্ত শাখা (আরএআইবি) এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। তবে দেশটিতে বর্তমানে তীব্র দাবদাহ চলছে এবং বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। তীব্র গরমের কারণে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রা বাতিল এবং গতি কমানো হয়েছিল। নেটওয়ার্ক রেলের মতে, অতিরিক্ত গরমে স্টিলের রেললাইন প্রসারিত হয়ে বেঁকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
দুর্ঘটনার জেরে হেওয়ার্ডস হিথ এবং লুইসের মধ্যবর্তী রেল চলাচল দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ধারকর্মী ও প্রকৌশলীদের কাজ নির্বিঘ্ন করতে সাউদার্ন রেল কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে লুইস স্টেশন দিয়ে যাতায়াত না করার পরামর্শ দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত দুই মাসের মধ্যে যুক্তরাজ্যে এটি দ্বিতীয় বড় রেল দুর্ঘটনা। এর আগে গত জুন মাসে ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড শহরের কাছে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/এসভিএন