মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভীতি প্রদর্শনের বদলে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে হতে হবে এবং এতে কোনো নির্দিষ্ট শক্তির আধিপত্য থাকা চলবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান এসব কথা বলেন। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রধান অন্তরায় হলো রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থার অভাব। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উরোপীয় ইউনিয়ন যদি শূন্য থেকে শুরু করে আজকের অবস্থানে আসতে পারে, তবে আমরা কেন পারব না?
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং এতে তুরস্কের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে ফিদান বলেন, এই অঞ্চলের যেকোনো চুক্তি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সহযোগিতায় কারও একচ্ছত্র আধিপত্য থাকা যাবে না। তার ভাষায়, না তুরস্কের আধিপত্য, না আরবদের আধিপত্য, না ফারসিদের (ইরান) আধিপত্য, এবং অন্য কারও আধিপত্যও নয়।
সিরিয়া ও যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গ সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে হাকান ফিদান বলেন, সেখানে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া সহজতর করতে তুরস্ক সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং এর সুযোগ নিয়ে মার্কিন বাহিনী সিরিয়া থেকে ‘দায়েশ’ (আইএস) বন্দীদের ইরাকে স্থানান্তর করছে। এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা এবং সবারই এতে সহায়তা করা উচিত।
সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকার এবং ওয়াইপিজি গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীতিগতভাবে যেকোনো সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক এমন যেকোনো চুক্তিকে সমর্থন করে যা স্থিতিশীলতা আনে, তবে তা অবশ্যই আঙ্কারার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দামেস্ক সরকার যখন ওয়াইপিজির সঙ্গে কোনো চুক্তিতে জড়ায়, তখন সাধারণত তুরস্কের নিরাপত্তার ‘রেড লাইন’ বা স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।
তথ্যসূত্র টিআরটি ওয়াল্ড
ডিবিসি/এমইউএ