প্রতারণার ফাঁদে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীরের

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভালো চাকরির প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হওয়া কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন (২৫) নামে এক যুবক ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। গত ১৮ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে তার পরিবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

নিহত জাহাঙ্গীর করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবার জানায়, একটি এজেন্সি চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাকে রাশিয়ায় নিয়ে যায় এবং প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করে। যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। জানা গেছে, ১৮ মে সংঘটিত ওই ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি সেনাসদস্যের মধ্যে জাহাঙ্গীরসহ তিনজন নিহত এবং একজন আহত হন। নিহত অপর দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।

 

বৃহস্পতিবার রাতে রাশিয়ায় সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে কর্মরত জাহাঙ্গীরের বন্ধু মৃদুল হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। ওই বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেন, এমন দুর্ঘটনার জন্য সম্পূর্ণভাবে আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি দায়ী এবং তাদের প্রতারণার কারণেই তারা তিন বন্ধুকে হারিয়েছেন।

 

জাহাঙ্গীরের ফুফাতো ভাই মো. রমজান জানান, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে একটি কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে জাহাঙ্গীরকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে প্রথমে একটি পিগ ফার্মে কাজ করানোর পর, রেস্টুরেন্টে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাহাঙ্গীরসহ সাতজন বাংলাদেশিকে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর জোরপূর্বক তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই মাস প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই জাহাঙ্গীরসহ তিনজন নিহত হন।

 

তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় জাহাঙ্গীর দুই বছর আগে তার বাবাকে হারান। তিনি বিবাহিত এবং তার দুই বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি কেবল তার স্ত্রী মাশুকা জানতেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের শেষ কথা হয়। তখন তিনি কিছুদিন যোগাযোগের বাইরে থাকার বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

 

জয়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য না পেলেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ রশিদ (২৮) নামে আরেক যুবকের একইভাবে মৃত্যু হয়েছিল।
 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন