আন্তর্জাতিক

ইউরোপে চলতি মৌসুমে প্রচণ্ড গরমে প্রায় ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে জুনের শেষের দিকে আঘাত হানা রেকর্ডভাঙা দাবদাহের ফলে ১০ হাজারের বেশি মুনুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই তথ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এবং ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ECDC) সমর্থিত ডেটা নেটওয়ার্ক ইউরোমোমো-এর তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বিশাল অংশ হলো বয়স্ক নাগরিক। এর মধ্যে ৯ হাজারের বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার ঊর্ধ্বে।

 

অতিরিক্ত তাপমাত্রায় হিট স্ট্রোকের পাশাপাশি হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, যার ফলে বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন।

 

ডেনমার্কের স্ট্যাটেনস সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘বছরের এই সময়ে মৃত্যুর এমন সংখ্যা অস্বাভাবিক এবং সংখ্যাটি সত্যিই অনেক বেশি। চরম তাপপ্রবাহ ছাড়া এত বেশি মানুষের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন।’

 

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই দাবদাহ এত তীব্র হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব ছাড়া জুনের শেষের দিকের মর্মান্তিক এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল।

 

২২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ফ্রান্স, স্পেন, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশে তাপপ্রবাহ চরম পর্যায়ে পৌঁছালে ১০,৬৫০ জন্য মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, এর পেছনে কোভিড-১৯ এর মতো অন্য কোনো সংক্রমেণর কারণ ছিল না।

 

এদিকে চরম তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্স, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাপমাত্রার পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে যায়।

 

ইউরোমোমো জানিয়েছে, জুনের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর হার রেকর্ড করা হয়েছে। বেলজিয়ামের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ‘সায়েনসানো’ জানিয়েছে, ২০০০ সালের পর দেশটিতে কোনো দাবদাহে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

 

এছাড়াও সোমবার প্রকাশিত অপর এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে যে, মে ও জুনের দাবদাহ চলাকালীন শুধুমাত্র ইংল্যান্ড ও ওয়েলসেই তাপজনিত কারণে ২,৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

 

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউকে মেট অফিস এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের তথ্যমতে, এই মৃত্যুর ৪২ শতাংশই ঘটেছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বৃদ্ধি পাওয়া চরম তাপমাত্রার প্রভাবে।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এসএস

আরও পড়ুন