আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা শেষে অবশেষে নিজ দেশ আফগানিস্তানের পথে রওনা হয়েছে আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলনের পর তার ভাই ইমাল মোহাম্মদীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তিনি মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এবং ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা তাসনিমের উপস্থিতিতে পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এ সময় নিহতের ভাই ইমাল মোহাম্মদী মরদেহ গ্রহণ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে মরদেহটি আফগানিস্তানে ফিরিয়ে নিতে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে ঝিনাইদহ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সেখানে প্রয়োজনীয় কিছু কাজ শেষে আফগানিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহেশপুর থানার উপপরিদর্শক টিপু সুলতান বলেন, ইছামতি নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত করা হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাক উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরে ইমাল মোহাম্মদী আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশের মহেশপুর থানায় এসে মরদেহটি তার ভাই হাসমত মোহাম্মদীর বলে দাবি করেন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় উভয়ের ডিএনএতে মিল পাওয়া গেলে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল মহেশপুরের পলিয়ানপুরে ভারত সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাকে অজ্ঞাত হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসমত মোহাম্মদীর ছবি দেখে তার স্বজনেরা তাকে শনাক্ত করেন।
ডিবিসি/এসএফএল