ইতালির সিসিলি দ্বীপের নিশেমি শহরে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় বহু বাড়িঘর খাদের একেবারে কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহের শক্তিশালী ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট এই ভূমিধসে শহরটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ইতালির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার এই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
দক্ষিণ-মধ্য সিসিলির এই শহরটি একটি মালভূমির ওপর অবস্থিত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে মালভূমিটির অংশবিশেষ নিচের সমভূমির দিকে ধসে পড়ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ইতিমধ্যে ১,৫০০-এরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর বেশ কিছু বহুতল ভবন শূন্যে ঝুলছে। এমনকি একটি গাড়িকে ফাটলের ভেতর অর্ধেক ঢুকে থাকতে দেখা গেছে।
সিভিল প্রোটেকশন প্রধান ফ্যাবিও সিসিলিয়ানো সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার, ভূমিধসের কিনারে থাকা বাড়িগুলো বসবাসের অযোগ্য। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে অন্যত্র পুনর্বাসন করতে হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভূমিধস এখনো সক্রিয় রয়েছে। পানি সরে যাওয়ার পর এবং মাটির নড়াচড়া থামলে বা ধীর হলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব করা সম্ভব হবে।
গত সপ্তাহে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে-সিসিলি, সার্ডিনিয়া এবং ক্যালাব্রিয়ায় শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার এই তিন অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
সরকার তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে ১০ কোটি ইউরো (প্রায় ১১৯ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দিলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি ইউরো (১ বিলিয়ন) ছাড়িয়ে যেতে পারে। শক্তিশালী বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং বহু ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে।
আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান এবং বাড়ি ছাড়ার নির্দেশে বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান না করার ফলেই আজকের এই পরিস্থিতি।
ফ্রান্সেস্কো জারবা নামের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাড়ির কোনো ক্ষতি না হওয়া সত্ত্বেও আমাকে চলে যেতে বলা হয়েছে। ৩০ বছর আগে এখানে প্রথম ভূমিধস হয়েছিল, কিন্তু কেউ কখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ডিবিসি/এমইউএ