ইসলামের ইতিহাসে প্রথম প্রতিষ্ঠিত মসজিদ হিসেবে মদিনার কুবা মসজিদের গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের সময় এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বের কারণে বিশ্বজুড়েই মুসলমানদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই মসজিদ।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে কুবা মসজিদে ইবাদত-বন্দেগি ও নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হয়েছেন ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ, যা মসজিদটির প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
সম্প্রতি সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর বিপুল সংখ্যক মুসল্লি ও দর্শনার্থী ইসলামের এই প্রথম মসজিদে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বিশেষ আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ করেছেন। মুসল্লিদের এই বিশাল উপস্থিতি সামাল দিতে এবং তাদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে মসজিদটিকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদি ভিশন ২০৩০ এর অংশ হিসেবে কুবা মসজিদের মতো ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আগত দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালজুড়ে মদিনা অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মসজিদটিতে ব্যাপক উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ পরিচালিত হয়।
সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে মসজিদে নতুন করে ২ হাজার ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের নামাজের স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আরও অধিক সংখ্যক মুসল্লিকে ধারণ করতে সক্ষম। পাশাপাশি মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা চিন্তা করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ১৬০ টনের বেশি করা হয়েছে।
মসজিদের বাহ্যিক সৌন্দর্য ও দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্যও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। রোদের তাপ থেকে রক্ষার জন্য মসজিদের বাইরে ১৫০টিরও বেশি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ছাউনি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া খুতবা ও আজান যেন স্পষ্টভাবে শোনা যায়, সেজন্য সাউন্ড সিস্টেমকে আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নীত করে ১৬০টি নতুন স্পিকার বসানো হয়েছে।
নামাজ ও ইবাদতের পরিবেশকে আরও আরামদায়ক করতে মসজিদের আঙিনাজুড়ে ৩ হাজার বর্গমিটার এলাকায় বিছানো হয়েছে নতুন ও উন্নত মানের কার্পেট। এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে মুসল্লিরা এখন আরও নিরাপদ ও প্রশান্তিময় পরিবেশে ইবাদত করতে পারছেন।
ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে কুবা মসজিদ আজও স্বমহিমায় ভাস্বর। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজনের ফলে ভবিষ্যতে এই মসজিদে মুসল্লিদের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সৌদি গেজেট।
ডিবিসি/এএমটি