ডান প্রান্তে এস্তেভাওর দুর্দান্ত ড্রিবলিং, একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়া। বাঁ দিক দিয়ে ওয়েসলির গতিময় ছুটে চলা। মাঝমাঠে আন্দ্রে সান্তোসের নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ, আর বক্সের ভেতরে জোয়াও পেদ্রো কিংবা কাইও জর্জের নিখুঁত ফিনিশিং। এটি শুধুই কল্পনার দৃশ্য নয়—২০৩০ বিশ্বকাপে এমন এক ব্রাজিলকেই দেখার স্বপ্ন দেখছে ফুটবলবিশ্ব।
২০২৬ বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে নতুন মিশনে নেমেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লক্ষ্য একটাই-২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জার্সিতে যোগ করা ষষ্ঠ তারকা।
২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল সেলেসাওদের। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এমন হতাশাজনক ফল প্রথমবারের মতো দেখেছে ব্রাজিল। তবে ইতিহাস বলছে, বড় ব্যর্থতার পরই অনেক সময় আসে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন। সেই প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য এখন ২০৩০ সালের শতবর্ষী বিশ্বকাপ।
কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন ব্রাজিল গড়ার পরিকল্পনা। ফিফার প্রকাশিত সম্ভাবনাময় তরুণদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ২৫ বছরের কম বয়সী কয়েকজন ফুটবলার, যারা চোট বা দুর্ভাগ্যের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি। ২০৩০ সালে তারাই হতে পারেন ব্রাজিলের নতুন শক্তির ভিত্তি।
আক্রমণভাগে সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারেন এস্তেভাও। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তার গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছে। চোটের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ মিস করলেও ২০৩০ সালে তিনি হতে পারেন সেলেসাওদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।
স্ট্রাইকার পজিশনেও বিকল্পের অভাব নেই। জোয়াও পেদ্রো গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ সাজাতেও সমান দক্ষ। কাইও জর্জ একাধারে স্ট্রাইকার ও ফলস নাইন হিসেবে খেলতে পারেন। এছাড়া ভিটর রকি ও ইগর জেসুসের মতো তরুণ ফরোয়ার্ডরা আক্রমণভাগে যোগ করতে পারেন নতুন মাত্রা।
মাঝমাঠে ব্রাজিলের নতুন যুগের নেতৃত্ব দিতে পারেন আন্দ্রে সান্তোস। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণ গড়ে তোলার সক্ষমতা তাকে বিশেষভাবে আলাদা করেছে। তার সঙ্গে থাকবেন জোয়াও গোমেস, যিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙার পাশাপাশি দ্রুত আক্রমণেও অবদান রাখতে পারেন।
রক্ষণভাগেও উঠে আসছে নতুন প্রজন্ম। ভিটর রেইসকে ভবিষ্যতের ডিফেন্স লিডার হিসেবে দেখা হচ্ছে। শক্তি, গতি ও বল নিয়ন্ত্রণে তিনি ইতোমধ্যেই সম্ভাবনার ছাপ রেখেছেন। দুই প্রান্তে কাইকি ব্রুনো ও ওয়েসলির মতো ফুলব্যাকরা ফিরিয়ে আনতে পারেন ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারা—যে ধারায় একসময় রবের্তো কার্লোস, কাফু ও মার্সেলো বিশ্ব ফুটবল মাতিয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দলটি হতে পারে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দুর্দান্ত সমন্বয়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারায়েসদের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন প্রজন্মের ক্ষুধার্ত প্রতিভারা। সেই দলকে এক সুতোয় গাঁথার দায়িত্ব এখন কার্লো আনচেলত্তির কাঁধে। পরিকল্পনা সফল হলে ২০৩০ বিশ্বকাপেই হয়তো ব্রাজিলের জার্সিতে যুক্ত হবে বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ তারকা।
ডিবিসি/ আরএফই