খেলাধুলা, ক্রিকেট

২৭ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট জয়

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

রবিবার ২৮শে জানুয়ারী ২০২৪ ০৮:০৪:২৭ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আমার সৌভাগ্য যে জীবদ্দশায় সবচেয়ে সেরা টেস্ট ম্যাচটি দেখছি- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রিসবেন টেস্ট চলাকালে টুইট বার্তায় লিখেছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। আসলেই তাই, পুরো চারদিনই দু’দল দারুণ রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। ম্যাচের পেন্ডুলামও দুলছিল দু’দিকে। একবার অস্ট্রেলিয়া তো আরেকবার মনে হচ্ছিল জিতে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ পর্যন্ত নার্ভ ধরে রেখে শামার জোসেফরা ৮ রানে ইতিহাস গড়ে জিতলেন।

১৯৯৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, শামার জোসেফের তখন জন্মও হয়নি। কিংবদন্তি কার্টলি অ্যামব্রোসের বয়স তখন ৩৪ বছর। ক্যারিয়ারের গোধূলিবেলায় অ্যামব্রোসের দুর্দান্ত ফাস্ট বোলিংয়ে বাংলাদেশের সাবেক কোচ কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেবারই সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর দুবছর পর পৃথিবীর আলো দেখেন জোসেফ। সেই জোসেফই ফাস্ট বোলিংয়ের অনন্য প্রদর্শনীতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৭ বছর পর টেস্ট ম্যাচে জয় এনে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির এই টেস্ট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে মাত্র ৮ রানে। আগের দিন ব্যাটিংয়ের সময় ডান পায়ের আঙুলে চোট যার বোলিং করাই অনিশ্চিত ছিল, সেই শামার জোসেফ ৬৮ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে টেস্ট ম্যাচ শেষও করে দিয়েছেন তিনি।

অনেকেই মনে করেছিলেন অ্যাডিলেডে সিরিজের প্রথম টেস্টে তিন দিনের মধ্যে হেরে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্রিসবেনে দিবারাত্রির ম্যাচটিতেও সহজেই হেরে যাবে। প্রথম ইনিংসে ৩১১ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু কেমার রোচ আর আলজারি জোসেফের অসাধারণ বোলিংয়ের পর অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ২৮৯ রান তুলে। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১৯৩ রানে, অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১৬। ২ উইকেটে ৬২ রান তুলে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করা অস্ট্রেলিয়া জয়ের পথেই ছিল। কিন্তু আজ চতুর্থ দিনে ৬৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে জোসেফ পাশার দান পাল্টে দেন।

ম্যাচটিতে ক্যারিবীয়দের অসাধারণ এই জয় এনে দেওয়ার আসল নায়ক জোসেফ। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় দেখা গিয়েছিল তিনি খুড়িয়ে হাঁটছেন। আগের দিন মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী এক ইয়র্কার তার আঙুল থেকে রক্ত ঝরিয়েছিল। ফলে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে রিটায়ার্ড হার্ট হন এই পেসার। ধারণা করা হচ্ছিল– হয়তো তার বোলিং সার্ভিস মিস করতে যাচ্ছে উইন্ডিজরা। তৃতীয় দিন তিনি শেষদিকে ফিল্ডিংয়েও নামেননি। তবে চতুর্থ দিন যা করে দেখালেন, তা অবিশ্বাস্য। টানা ১০ ওভারের স্পেলে বল করেছেন। আগুনঝরা বোলিংয়ে ৬৮ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট।

দুই হাত দু’দিকে ছড়িয়ে শামার জোসেফের দেওয়া দৌড়ের সঙ্গে সঙ্গেই রোমাঞ্চকর এই ম্যাচের ফল চলে আসে। তখন ধারাভাষ্যকক্ষে আনন্দ অশ্রু ঝরছিল ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার চোখে। এমন ম্যাচ দেখে হতবিহবল ছিলেন পাশে থাকা অস্ট্রেলিয়ান অ্যাডাম গিলক্রিস্টও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৩১১, অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ২৮৯/৯ (ডিক্লেয়ার)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৭২.৩ ওভারে ১৯৩ (ম্যাকেঞ্জি ৪১, অ্যাথানেজ ৩৫, গ্রিভস ৩৩, হজ ২৯, ব্রাফেট ১৬; হ্যাজলউড ১৪–২৩–৩, লায়ন ২২–৪২–৩, গ্রিন ১০–৩৭–১, স্টার্ক ১৪.৩–৪৫–১)

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৫০.৫ ওভারে ২০৭ (স্মিথ ৯১*, গ্রিন ৪২, স্টার্ক ২১, খাজা ১০, মার্শ ১০, লায়ন ৯; শামার ১১.৫–৬৮–৭, ১৭–৬২–২, গ্রেয়াভেস ১২–৪৬–১)

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ রানে জয়ী।

সিরিজ: ১–১ ড্র

ম্যাচ ও সিরিজ সেরা: শামার জোসেফ

সব শেষে কিছুটা আবেগ সামলে লারা বলে ওঠেন- ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ফের মাথা তুলে দাঁড়ানোর দিন আজ।

ডিবিসি/ এসএসএস


আরও পড়ুন