জাতীয় ফুটবল দলে সরাসরি জায়গা না পাওয়া এবং ট্রায়াল দেওয়ার শর্তের ক্ষোভ ও হতাশায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম থেকে বাংলাদেশ সংক্রান্ত সব ছবি মুছে ফেলেছেন প্রবাসী ফুটবলার কিউবা মিচেল। আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডে তাকে না রাখা এবং নিজ খরচে দেশে এসে ট্রায়াল দেওয়ার নির্দেশনার পরই এই ঘটনার জন্ম হয়।
সম্প্রতি আসিয়ান কাপের জন্য দল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ থমাস ডুলি, যেখানে বিদেশের লিগে খেলা কোনো ফুটবলারকে রাখা হয়নি। ২০ বছর বয়সি কিউবাকে সরাসরি অনুশীলন ক্যাম্পে না ডেকে ট্রায়াল দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেন কোচ। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, অতীতে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এই তরুণকে নিজ খরচে বিমানভাড়া দিয়ে ট্রায়াল দিতে আসার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে অভিমানে ইনস্টাগ্রাম থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কিত যাবতীয় ছবি সরিয়ে নেন কিউবা। তবে এই বিষয়ে তার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নিজের সিদ্ধান্তে একেবারেই অনড় রয়েছেন জার্মান কোচ থমাস ডুলি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিজ চোখে না দেখে কাউকে মূল ক্যাম্পে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডুলির ভাষ্য, তিনি কিউবাকে সেভাবে খেলতে দেখেননি এবং তার খেলার মান সম্পর্কেও কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, খেলোয়াড়টি যদি ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা প্রথম বা দ্বিতীয় বিভাগে খেলতেন, তবে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারত।
চূড়ান্ত স্কোয়াড গঠনের আগে একজন ফুটবলারকে বাজিয়ে দেখাটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন ডুলি। নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বাংলাদেশ কোচ জানান, চূড়ান্ত দলে নেওয়ার আগে একজন খেলোয়াড়কে পরখ করাটাই স্বাভাবিক নিয়ম এবং তিনি শুধু সেই নিয়ম মেনেই কিউবাকে যাচাই করে দেখতে চেয়েছেন।
ডিবিসি/এফএইচআর