ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় দেশের বৃহত্তম বান্টারগেবাং ল্যান্ডফিলে ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে আবর্জনার স্তূপ ধসে পড়ার ঘটনায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান দেশিয়ানা কার্তিকা বাহারি জানিয়েছেন, ল্যান্ডফিলে চাপা পড়া সর্বশেষ ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে এ তল্লাশি অভিযানের সমাপ্তি টানা হয়।
গত রবিবার (৮ মার্চ) ঘটা এ দুর্ঘটনায় মোট সাতজন নিহত হয়েছেন এবং ছয়জন প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহতরা মূলত আবর্জনা ফেলার কাজে নিয়োজিত ট্রাক চালক এবং ওই এলাকার খাবারের দোকানের মালিক ছিলেন।
এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বিবৃতিতে চারজন নিহত ও পাঁচজন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তবে উদ্ধারকারী দলের প্রধান বাহারি জানান, পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজ পাঁচজনের মধ্যে দুজন সম্পূর্ণ নিরাপদে নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছেন। অবশিষ্ট তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধারের ফলে মোট মৃতের সংখ্যা সাতে গিয়ে দাঁড়ায়।
নিখোঁজদের সন্ধানে ২০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী দিনরাত কাজ করেছেন। এ বিশালাকার আবর্জনার স্তূপে হতাহতদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে ভারী খননকারী যন্ত্রের পাশাপাশি অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় এই বান্টারগেবাং ল্যান্ডফিলটি প্রায় ১১০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬,৫০০ থেকে ৭,০০০ টন বর্জ্য পদার্থ এখানে এনে জমা করা হয়। রবিবার প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার কারণেই এ বিশাল বর্জ্যের স্তূপ ধসে পড়ে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এএমটি