আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ও বেশ কয়েকটি আফটারশকের আঘাতে অন্তত ৪৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

শনিবার ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল ডিজাস্টার মিটিগেশন এজেন্সি (বিএনপিবি) তাদের সর্বশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়লে সতর্কতা জারি করা হয়, তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাহার করে নেয়।

 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের অঞ্চল নাগেকিওতে পৌঁছাতে পারেননি। সড়কপথে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর উদ্ধারকারী দলের একটি অংশ ফেরিতে করে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে নাগেকিও থেকে ইতিমধ্যে প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে, ফ্লোরেস দ্বীপের সিকা রিজেন্সির প্রধান শহর মাউমেরে থেকে উদ্ধারকর্মীরা ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। সেখানে আরও ছয়জন আহত ও দুজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার খবর পাওয়া যায়।

 

ইস্ট নুসা টেংগারার গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘুমের মধ্যে ভবন ধসে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বিএনপিবি-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১৫৭টি বসতবাড়ি ব্যাপকভাবে, ৪১টি মাঝারিভাবে এবং ১৪৮টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৮৭টি স্কুল, ১৮টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, পাঁচটি উপাসনালয় এবং ছয়টি অফিস ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং অনেক মানুষ এখনো বিভিন্ন ভবনের নিচে আটকে আছেন বলে সংস্থাটির প্রধান সুহারিয়ানতো জানিয়েছেন।

 

ইন্দোনেশিয়ার জিওফিজিক্স এজেন্সি (বিএমকেজি) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। ইস্ট নুসা টেংগারা, ওয়েস্ট নুসা টেংগারা এবং দক্ষিণ সুলাওয়েসির কিছু অংশে প্রায় এক মিনিট ধরে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। এতে আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেন। বিএমকেজি আরও জানায়, ১৯৯২ সালেও একই এলাকায় ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার'-এ অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই এমন ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন