ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি প্রদেশের মুনা দ্বীপে চুনাপাথরের গুহায় বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্রের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। বিজ্ঞানীদের দাবি, মানুষের হাতের ছাপ সম্বলিত এই চিত্রকর্মগুলো প্রায় ৬৭,৮০০ বছরের পুরনো।
ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের যৌথ অনুসন্ধানে এই চিত্রগুলো আবিষ্কৃত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, গুহার দেওয়ালে হাত রেখে তার ওপর রঞ্জক পদার্থ ফুঁ দিয়ে (stencilled) এই চিত্রগুলো তৈরি করা হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার ‘ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সি’ এর প্রত্নতাত্ত্বিক আদি আগুস অক্টাভিয়ানা জানান, গুহার দেওয়ালে পরবর্তী সময়ে আঁকা ঘোড়া ও মুরগির চিত্রের নিচের স্তরে এই প্রাচীন হাতের ছাপগুলো পাওয়া গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক ম্যাক্সিম অবার্ট এবং অ্যাডাম ব্রাম এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন। তাঁরা লক্ষ্য করেন যে, চিত্রে হাতের আঙুলের ডগাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে সূচালো করা হয়েছে। অ্যাডাম ব্রামের মতে, আদিম মানুষেরা হয়তো মানুষের হাতকে পশুর থাবা বা অন্য কোনো প্রতীকে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছিলেন, যার পেছনে গভীর কোনো সাংস্কৃতিক তাৎপর্য থাকতে পারে।
চিত্রগুলোর বয়স নির্ধারণে বিজ্ঞানীরা ‘ইউরেনিয়াম-সিরিজ ডেটিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। গুহার গায়ে জমে থাকা ক্যালসাইট বা খনিজ স্তরের ওপর লেজার প্রযুক্তি প্রয়োগ করে জানা গেছে যে, চিত্রগুলো অন্তত ৬৭,৮০০ বছর আগে আঁকা হয়েছিল।
এই আবিষ্কারটি ২০২৪ সালে একই গবেষক দলের সুলাওয়েসি অঞ্চলে আবিষ্কৃত পূর্ববর্তী গুহাচিত্রের চেয়েও ১৫,০০০ বছরের বেশি পুরনো। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে আমাদের পূর্বপুরুষরা কেবল দক্ষ নাবিকই ছিলেন না, তারা ছিলেন সৃজনশীল শিল্পীও।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/এনএসএফ