ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও একের পর এক পরাঘাতের মধ্যেই জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে এক কন্যাশিশু। নাগেকিও অঞ্চলের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী মারিয়া ফ্লোরিডা নোগো কেলেন যখন তার চতুর্থ সন্তানের জন্ম দিচ্ছিলেন, তখন প্রলয়ঙ্কারী এই ভূমিকম্পের আঘাতে চারপাশের ঘরবাড়ি, ভবন ও সেতুগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল।
শারীরিক জটিলতা ও স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগেই তার জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়। হাসপাতালের ভবনটি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠার সময় বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চিকিৎসকদের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপারেশন দেরি হলে মারিয়া মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বিপদে পড়তে পারতেন। জীবনরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাব এবং তীব্র আতঙ্ক সত্ত্বেও চিকিৎসক ইয়োনা সারা পারদেদে ও তাঁর টিম অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।
ভূমিকম্পের ইন্দোনেশীয় শব্দ 'জেমপা' (Gempa)-র সঙ্গে মিলিয়ে নবজাতক কন্যার নাম রাখা হয় 'জেমপিতা'। মাত্র ১.৩ কেজি ওজনের এই নবজাতককে পরবর্তীতে বাইরে তাঁবুতে ঘাসের ওপর রোদের মধ্যে রাখা ইনকিউবিটারে সুস্থ রাখা হয়, যেখানে প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণে ভোগা মারিয়াও চিকিৎসকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে মারাত্মক দুর্যোগ, যাতে ইতোমধ্যে ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শত শত ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল ও ধ্বংসস্তূপের মাঝে উদ্ধারকর্মীরা ত্রাণ সহায়তা ও নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপর রয়েছেন।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন