আন্তর্জাতিক, এশিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেন-মিনিবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের ৯ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইন্দোনেশিয়ায় উত্তর সুমাত্রার তেবিং টিঙ্গি শহরে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় একটি মিনিবাস দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার (২১‌ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তেবিং টিঙ্গির আব্দুল হামিদ সড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। টয়োটা অ্যাভানজা মডেলের একটি মিনিবাস অরক্ষিত ওই রেলক্রসিংটি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই সময়েই রান্তাউ প্রাপাত থেকে মেদানগামী ‘শ্রী বিলাহ উতামা’ নামের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন দ্রুতগতিতে ওই এলাকা অতিক্রম করছিল।

 

ট্রেনটি সজোরে মিনিবাসটির বাম পাশে আঘাত করে এবং গাড়িসমেত প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয় এবং যাত্রীরা ভয়াবহ আঘাত পান।

 

তেবিং টিঙ্গি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের প্রধান সেকেন্ড ইন্সপেক্টর হেরু উইবোও দুর্ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে যাত্রীরা গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই মিনিবাসের ৮ জন যাত্রী প্রাণ হারান। চালককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

তিনি আরও জানান, নিহত ও আহত সবাইকে দ্রুত তেবিং টিঙ্গির ভায়াংকারা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ৪২ বছর বয়সী চালক আব্দুল কাদির আল জাইলানি মারা যান। এর ফলে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ জনে।

 

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একটি হৃদয়বিদারক তথ্য মিনিবাসের সকল যাত্রীই ছিলেন একই পরিবারের সদস্য। তাদের বাড়ি দুর্ঘটনাস্থল তেবিং টিঙ্গি থেকে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার দূরে ডেলি সেরদাং জেলায়।

 

জানা গেছে, পরিবারটি প্রথমে বাতুবারা জেলায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে তারা তেবিং টিঙ্গিতে এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে যান। সেখান থেকে ডেলি সেরদাংয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার পথেই তারা এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

 

দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে। অরক্ষিত রেলক্রসিং এবং চালকের অসতর্কতা উভয় দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার রেলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে আবারও কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: দ্য জাকার্তা পোস্ট

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন