ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে আবারও ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারকে (ইএমএসসি) উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
গত কয়েক দিনের মধ্যে অঞ্চলটিতে আঘাত হানা একাধিক শক্তিশালী কম্পনের সর্বশেষ এটি। এর আগে গত ১৫ আগস্ট ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তরে সমুদ্র এলাকায় এন্ডে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ১০ কিলোমিটার গভীরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ১৭ আগস্টও সেখানে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ আগস্টের মূল ভূমিকম্প ও পরবর্তী দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭১ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। এছাড়া প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এতে ১১ হাজার ৯০০টির বেশি ঘরবাড়ি ছাড়াও এক হাজারের বেশি সরকারি ও সেবামূলক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মূল ভূমিকম্পটির পরপরই সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যেখানে কিছু এলাকায় এক মিটারের বেশি উঁচু ঢেউয়ের খবর পাওয়া যায়। যদিও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়, তবে এরপর থেকে অঞ্চলটিতে তিন হাজারের বেশি পরাঘাত (আফটারশক) রেকর্ড করা হয়েছে।
ধারাবাহিক কম্পনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। একইসঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ফলে যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে এবং উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সরকারি সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে। দুর্গতদের মাঝে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নতুন কম্পনের প্রেক্ষাপটে স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।