ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে একটি বড় ধরনের অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগে ৩৯ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে বালি পুলিশের প্রধান ইন্সপেক্টর জেনারেল ড্যানিয়েল আদিত্যজয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনে তাদের আটক রাখা হয়েছে। বাকি ৪ জনকে বর্তমানে সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নজরদারি চালানোর সময় “Rambetexchange” নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের সন্ধান পায়। এই অ্যাকাউন্টটি “Ram Betting Exchange” নামক একটি অনলাইন জুয়া ওয়েবসাইটের প্রচার চালাচ্ছিল, যেখানে টাকা জমা, উত্তোলন এবং জুয়া সংক্রান্ত সহায়তার লিংক দেওয়া ছিল।
তদন্তের পর পুলিশ বালির দুটি ভিলা চিহ্নিত করে- বাদুং এর তিবুবেনং এলাকার সুবাক দাকসিনা স্ট্রিটের একটি ভিলা এবং তিবানানের কেদিরি এলাকার জালান রায়া মুঙ্গুর একটি ভিলা।
দীর্ঘ সময় নজরদারি চালানোর পর ৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ একযোগে অভিযান চালিয়ে সরঞ্জামাদিসহ অভিযুক্তদের আটক করে।
পুলিশের অনুমান অনুযায়ী, এই চক্রটি প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ কোটি থেকে ৮০০ কোটি ইন্দোনেশীয় রুপিয়াহ (প্রায় ৪.১৩ লক্ষ থেকে ৪.৭২ লক্ষ মার্কিন ডলার) আয় করত। প্রতিটি ভিলা থেকে মাসে প্রায় ৪৩০ কোটি রুপিয়াহ আয় হতো।
অভিযুক্তরা পর্যটক ভিসা ব্যবহার করে বালিতে অবস্থান করছিল এবং মূলত বিদেশী খেলোয়াড়দের টার্গেট করে এই অপারেশন চালাচ্ছিল।
সাইবার ক্রাইম ডিরেক্টর কমিশনার আসজারি কুর্নিওয়ান জানান, আমরা তদন্ত করে দেখছি যে এই চক্রের সাথে কম্বোডিয়ার কোনো নেটওয়ার্কের যোগসূত্র আছে কি না।
অভিযানকালে পুলিশ ৪টি পিসি মনিটর, ১৫টি ল্যাপটপ, ২টি রাউটার এবং ৭৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার ২০২৪ সালের ইলেকট্রনিক তথ্য ও লেনদেন আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ ৯ বছরের জেল এবং ২০ কোটি রুপিয়াহ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
সূত্র: জাকার্তা গ্লোব
ডিবিসি/এসএফএল