ডিআর কঙ্গোর কঙ্গো নদীতে ইবোলা ও কলেরার আশঙ্কায় ২৫৫ জন যাত্রীসহ একটি নৌকাকে কঠোর কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। একটি চীনা কোম্পানির পরিচালিত 'ইংফেং ২' নামের এই জলযানটিকে রাজধানী কিনশাসা থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উজানে বেনদে বেনদে বন্দরের কাছ থেকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজার কামবা জানিয়েছেন, নৌকাটির এক যাত্রী জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আগের একটি স্টপে নেমে হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই যাত্রীর পাশাপাশি আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক, একটি তিন বছরের শিশু এবং একটি নবজাতকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি বিশেষ দল নৌকাটিতে উঠে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি মোবাইল ল্যাব স্থাপন করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত কেউ পজিটিভ শনাক্ত হননি, এবং আশা করা হচ্ছে ২১ দিনের ইনকিউবেশন পিরিয়ড পার হওয়ার পরও কেউ সংক্রমিত হবেন না।
বিবিসি সূত্রে জানা যায়, ভেসেলটি ডিআর কঙ্গোর তৃতীয় বৃহত্তম শহর কিসাঙ্গানি থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যাত্রা শুরু করেছিল। এর আগে ওই অঞ্চলেই ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় অন্তত চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে যে প্রদেশে মৃত যাত্রী নেমেছিলেন, সেখানে ইবোলার কোনো সংক্রমণ মেলেনি বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যের দিকে যাওয়ার সময় নৌকাটিকে মাঝপথেই আটকানো হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী রাজধানীতে ভাইরাসটির সম্ভাব্য বিস্তার রোধ করতে নদী তীর থেকে দূরে নৌকাটিকে অবরুদ্ধ বা কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে থেকে দেশটিতে ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব চলছে, যা ভাইরাসের অত্যন্ত বিরল 'বুন্দিবুগিও' প্রজাতির কারণে ছড়াচ্ছে। দীর্ঘ এক দশক পর এই প্রজাতির উপদ্রব দেখা দেওয়ায় এবং এর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন না থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও যুক্তরাজ্যে বর্তমানে একটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের মানব পরীক্ষা চলছে।
প্রাদুর্ভাবের তিন মাস পার হলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩,৯৭৩ জন নিশ্চিত আক্রান্ত এবং ১,৮০১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এটিকে ইতিহাসের দ্বিতীয় সবচেয়ে মারাত্মক ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শত শত রোগী। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে রাজধানী কিনশাসার প্রধান প্রবেশদ্বার মালুকুতে নজরদারি ও জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এমএনকে