বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৮ জন সরকারি সেনা নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামরিক সূত্রগুলোর মতে, গত চার বছরের গৃহযুদ্ধে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী দিন এবং ২০২২ সালের পর ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।
শুরুতে চিকিৎসা সূত্রগুলো ৩৮ জনের মৃত্যুর কথা জানালেও, পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৮ জন বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক সূত্র।
সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্য ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের আল-রুওয়াইক এলাকার একটি সামরিক ক্যাম্প এবং সৌদি আরব সীমান্তবর্তী হাদরামাউতের আল-আবর ও আল-ওয়াদিয়াহ এলাকার ক্যাম্পগুলোতে এই হামলা চালানো হয়।
বিশেষ করে মারিবের ক্যাম্পে সকালের সমাবেশের সময় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানেই অন্তত ৪৫ জন হতাহত হন। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রতিবেশী সৌদি আরবের সহায়তায় সরকারি বাহিনীর কথিত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্রোহীরা যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
এই ভয়াবহ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী উপযুক্ত স্থানে ও সময়ে এর কঠোর জবাব দেবে।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের জেরে ইয়েমেন ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের একটি নতুন রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে। গত মাসে হুথিরা ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সানায় সরাসরি একটি ইরানি বিমানকে স্বাগত জানানো, সৌদি বন্দরে নৌ-অবরোধ ঘোষণা এবং ট্যাংকারে হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, গত মাসেও তাদের হামলায় ১৬ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছিল।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে হুথিদের সাথে ইয়েমেন সরকারের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে, যার ফলে দেশটিতে চরম মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
বর্তমানে রাজধানী সানা ও জনবহুল উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলের সিংহভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থবির থাকলেও সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দেশটিকে আবারও চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
ডিবিসি/এমএনকে