আন্তর্জাতিক

ইরানকে একঘরে করার হুমকি ট্রাম্পের, চাপে বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলো!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে সমর্থনকারী অথবা দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা যেকোনো দেশকে অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি কার্যকর হলে ইরানের তেল ও গ্যাসের ক্রেতা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলো নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে ইরানের বৃহত্তম তেল ক্রেতা চীন। গত এক দশকে দেশটি এমন একটি সুরক্ষিত শোধনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যেখানে প্রধানত ইরানি তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট শোধনাগারগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পৃক্ততা তুলনামূলক কম।

 

শোধনাগারসংশ্লিষ্ট সূত্র ও তেল ব্যবসায়ীদের দাবি, চীনে পাঠানো ইরানি তেল দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশীয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দোনেশীয় তেল হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এসব লেনদেন অত্যন্ত সীমিত ও গোপন একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অর্থ পরিশোধ করা হয় চীনা মুদ্রায় এবং এতে এমন মধ্যস্থতাকারীরা যুক্ত থাকেন, যাদের পরিচয় ও কার্যক্রম শনাক্ত করা কঠিন।

 

এপ্রিল মাসে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ শত শত কোটি ডলারের ইরানি তেল কেনার অভিযোগে চীনের একটি স্বাধীন তেল শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে চীনা ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়, তারা ইরানি তেলের বাণিজ্যে সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

 

মার্কিন চাপের সমালোচনা করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি বর্তমানে চীনের বাজারে যাচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া এই তেল কিনছে চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো। পণ্য ও জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীন ইরান থেকে দৈনিক গড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল কিনেছে।

 

ঐতিহাসিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করেছে। দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ইরান-সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ছিল। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব আমানতের বড় অংশ অচল হয়ে পড়েছে।

 

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছিল ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪ সালে ইরানের মোট ২১ বিলিয়ন ডলারের আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছিল আমিরাত থেকে। একই বছরে ইরানের মোট রপ্তানির ১৩ শতাংশও দেশটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল।

 

আমিরাতের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দুই দেশের তেলবহির্ভূত বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর সিংহভাগই ছিল পুনঃরপ্তানি। তবে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিসহ সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে আমিরাত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন স্থগিত করেছে। এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

 

তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্ক ইরান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করার পাশাপাশি দেশটিতে বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে। এখন পর্যন্ত আঙ্কারা তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।

 

দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তুরস্ক ইরানে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। তুরস্ক তার প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পুরোটাই আমদানি করে এবং মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ সরবরাহ করে ইরান। ফলে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্প খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

 

ইরাকের সরকারি বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এই বাণিজ্যে ইরাকের বাজারে ইরানি খাদ্য, ভোগ্যপণ্য এবং অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে অবগত ইরাকি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ করিম বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৬ সালে দুই দেশের বাণিজ্য কমে যায়। আঞ্চলিক নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পারাপারকেন্দ্রে মাঝেমধ্যে বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিস্তৃত সরবরাহব্যবস্থার সংকট এর প্রধান কারণ। এসব সমস্যায় আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের পরিমাণ ও নির্ভরযোগ্যতা কমলেও দেশ দুটি এখনো পরস্পরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।

 

দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি জ্বালানি। ইরাকি জ্বালানি কর্মকর্তাদের হিসাবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য ইরাক প্রতিবছর ইরানকে প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে।

 

দুই ইরাকি জ্বালানি কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, ইরাকের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মার্কিন বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে বাগদাদের জন্য ইরানি জ্বালানির মূল্য পরিশোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানকে অর্থ পরিশোধে ইরাককে ইতোমধ্যে সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত হিসাব ব্যবহার করতে হচ্ছে।

 

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগে থেকেই ওমান ইরানের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের বিরোধ নিরসনে মাস্কাট বহুবার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

 

ওমানের জাতীয় পরিসংখ্যান ও তথ্যকেন্দ্রের হিসাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য বেড়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্য ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে এর পরিমাণ ছিল ৩৪৫ মিলিয়ন ডলার। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিলে ওমানের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বা দেশটিকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিলে পাকিস্তান গুরুতর অর্থনৈতিক ধাক্কা খেতে পারে। ইসলামাবাদ ও তেহরান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছে।

 

ইরানের বিরুদ্ধে আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য সীমিত ছিল। তবে বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, অনানুষ্ঠানিক পথে দুই পক্ষের সম্মিলিত আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

 

জুনে ইসলামাবাদে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাকিস্তান ও ইরান বহু বছর ধরে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে তেল, গম, চাল, গবাদিপশু এবং ওষুধের বাণিজ্য করে আসছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা এসব পণ্যের সরবরাহ, মূল্য ও সীমান্তবর্তী এলাকার অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

 

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২০ সাল থেকেই ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ব্যাপকভাবে কমে যায়। আগের বছরের ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০১৯–২০ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কমে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

 

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী বছরগুলোতেও বাণিজ্য কমেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারই ভারতের রপ্তানি। নয়াদিল্লি প্রধানত ইরানে খাদ্যশস্য, চা, কফি ও মসলা রপ্তানি করে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলে আসছেন, মানবিক বিবেচনায় এসব পণ্যের রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে এবং এগুলো যেকোনো নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা উচিত। তবে ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ালে ভারতীয় রপ্তানিকারক ও ব্যাংকগুলো আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।

 

আর্মেনিয়ার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল ইরানের সঙ্গে, যার আর্থিক মূল্য ৭৬৮ মিলিয়ন ডলার। প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দুই দেশের বাণিজ্য ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

 

এ সময় ইরানে আর্মেনিয়ার রপ্তানি ৬ শতাংশ কমে ৪২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরান থেকে আমদানি ১২ শতাংশ বেড়ে ৩৩৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই দুটি অঙ্কের যোগফল ঘোষিত মোট বাণিজ্যের অঙ্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

আর্মেনিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ ইরানের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। দুই দেশের মধ্যে ‘গ্যাসের বিনিময়ে বিদ্যুৎ’ চুক্তিও রয়েছে। এর আওতায় আর্মেনিয়া ইরানের গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে; উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ ইরানে ফেরত পাঠানো হয় এবং অন্য অংশ আর্মেনিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।

আজারবাইজানের রাষ্ট্রীয় শুল্ক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি–জুন সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে ইরানের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। বাণিজ্যের পরিমাণ ২৯৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

একই সময়ে ইরান থেকে আজারবাইজানের আমদানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২৯২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার থেকে ২৯৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ইরানে আজারবাইজানের রপ্তানি ২ দশমিক ৪ গুণ বেড়ে ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার থেকে ১৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

২০২৬ সালের জানুয়ারি–জুনে আজারবাইজানের মোট আমদানির ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ এসেছে ইরান থেকে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই হার ছিল ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ফলে ইরানের সঙ্গে লেনদেনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নিলে আজারবাইজানের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে।

 

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে তার প্রভাব শুধু ইরানের তেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চীনের স্বাধীন শোধনাগার থেকে শুরু করে ইরাকের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তুরস্কের গ্যাস সরবরাহ, আমিরাতের পুনঃরপ্তানি, পাকিস্তানের সীমান্ত বাণিজ্য এবং আর্মেনিয়ার জ্বালানি বিনিময় সবকিছুই নতুন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ডলারে লেনদেন, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং, পরিবহন, বিমা ও সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় ইরানের সঙ্গে ব্যবসা সীমিত করতে বাধ্য হতে পারে।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এমএমকে

আরও পড়ুন