ইরানের তেল বিক্রি বন্ধ করতে নতুন করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ১০০টিরও বেশি ব্যক্তি, জাহাজ এবং কোম্পানিকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইরানের বিরুদ্ধে অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ইরানের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তেল রপ্তানিকে পঙ্গু করে দিতে দেশটির জাহাজ শিল্পের ওপর নতুন করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এই নিষেধাজ্ঞায় ১৫টি শিপিং কোম্পানি, ৫২টি জাহাজ, ১২ জন ব্যক্তি এবং ৫৩টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
এই ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মোহাম্মদ হোসেইন শামখানি নামক এক প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি শামখানির পুত্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, মোহাম্মদ শামখানি বিশ্বজুড়ে এক জটিল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। পানামা থেকে হংকং পর্যন্ত প্রায় ১৭টি দেশে ছড়িয়ে থাকা তার বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে ইরান ও রাশিয়ার তেল বিশ্ববাজারে বিক্রি করা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল বিক্রির পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা আর্থিক স্রোতকে থামিয়ে দেওয়া। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন গত জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য শত্রুতা’ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার ‘দুষ্টচক্র’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথা বললেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালুর চেষ্টা করলে আরও ভয়াবহ হামলার শিকার হবে।
ডিবিসি/এফএইচআর