যারা ইরানকে ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখছেন, তারা মূলত মিথ্যা কল্পনায় বাস করছেন বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে চলমান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে যেকোনো আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও যথাযথ জবাবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পৃথক বার্তায় ইরানের শীর্ষ দুই নেতা এই কড়া বার্তা দেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বার্তায় ইরানের হাজার বছরের টিকে থাকার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে শত্রুদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ইতিহাসের কঠিন পথ পরিক্রমায় কোনো শক্তিই ইরানকে মুছে ফেলতে পারেনি। যারা ইরানকে ধ্বংস করার মতো অলীক স্বপ্ন দেখছেন, তারা মূলত ইতিহাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। অন্তত ছয় হাজার বছরের পুরনো এক সমৃদ্ধ সভ্যতার উত্তরাধিকারী দেশটির ওপর অতীতেও অনেক হামলাকারী এসেছে এবং চলেও গেছে, কিন্তু ইরান তার স্বমহিমায় আজও টিকে আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান এই সংঘাতের ১১তম দিনে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও শত্রুদের প্রতি সরাসরি প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের ওপর চালানো কোনো আগ্রাসনকেই বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এখন থেকে ইরান দ্বিধাহীনভাবে এবং কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি অনুসরণ করবে।
শত্রুরা যদি ইরানের কোনো অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তবে নিশ্চিতভাবেই এর পাল্টা জবাব হিসেবে তাদের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পার্লামেন্ট স্পিকার। শীর্ষ দুই নেতার এমন বিবৃতি চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনায় ইরানের অনড় অবস্থানেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এএমটি