আন্তর্জাতিক

ইরানবিরোধী আগ্রাসন চললে পুনরায় যুদ্ধে ফেরার হুঁশিয়ারি হুতি প্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি স্থায়ী কোনো সমাধান না আসে এবং ইরানবিরোধী আগ্রাসন পুনরায় শুরু হয়, তবে আবারও যুদ্ধে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ (হুতি) আন্দোলনের প্রধান আব্দুল মালিক আল-হুতি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক টেলিভিশন ভাষণে হুতি নেতা বলেন, ৪০ দিনের মার্কিনি-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তা যদি আগ্রাসন বন্ধে ব্যর্থ হয়, তবে হুতিরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় কোনো হামলা শুরু হলে আনসারুল্লাহ আন্দোলন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে না।


আব্দুল মালিক আল-হুতি বলেন, “আমরা সরাসরি ইসরায়েলি শত্রু এবং তাদের অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। যদি শত্রু পক্ষ আবার যুদ্ধে ফিরে আসে, তবে আমাদের সামনেও যুদ্ধে ফেরার পথ খোলা রয়েছে।”


ভাষণে হুতি নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও তা আগ্রাসন বন্ধে খুব একটা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। তার মতে, যেকোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি মূলত চলমান সংঘাতের মাঝে কেবল একটি বিরতি মাত্র। তিনি জায়নিস্ট শাসনকে মুসলিম উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু হিসেবে অভিহিত করেন এবং পশ্চিম এশিয়াকে পুনর্গঠনের পশ্চিমা দাবিকে আধিপত্য বিস্তারের ছদ্মবেশ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।


লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক হামলার সমালোচনা যারা করছেন, তাদের নিন্দা জানান আব্দুল মালিক আল-হুতি। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবেই হিজবুল্লাহ পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। একইভাবে, ২০২৩ সালের অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড ছিল দীর্ঘ ৭০ বছরের জায়নিস্ট অপরাধ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক মুক্তিকামী গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের প্রক্সি বা প্রতিনিধি হিসেবে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টাকে তিনি বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন। হুতি প্রধান বলেন, জায়নিস্টরাই এই প্রক্সি শব্দটি উদ্ভাবন করেছে যাতে মুক্তিকামী দেশগুলোর স্বাধীন কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করা যায় এবং তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করা যায়।


তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইসরায়েল যখন মার্কিন অস্ত্র দিয়ে প্রতি আধা ঘণ্টায় একজন ফিলিস্তিনি নারীকে হত্যা করছে, তখন মানবাধিকার বা নারী অধিকার কোথায় থাকে?


উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘাত শুরু হয়। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন শুরু থেকেই ইরানের নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধ অক্ষের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে আসছে।


৪০ দিনব্যাপী সেই যুদ্ধের পর সম্প্রতি একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪-এর অধীনে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ডে শত শত ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।


সূত্র: প্রেস টিভি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন