আন্তর্জাতিক

ইরানযুদ্ধ নিয়ে চরম বিপদে ট্রাম্প, নিজ দলেই বাড়ছে বিরোধিতা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ একটি নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। তিন মাসের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর চলতি মাসে উভয় পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তবে কোনো পক্ষই কৌশলগত দিক থেকে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। বর্তমানে মার্কিন সামরিক অভিযানগুলো কিছুটা স্থগিত থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমাগত উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ শেষ করার জন্য নিজ দল রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। ফক্স নিউজের লরা ইনগ্রাহাম, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এবং সিনেটর বিল ক্যাসিডি প্রকাশ্যে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচন তার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

 

গত মার্চ মাসের পর সম্প্রতি এই যুদ্ধে নতুন করে আরও চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যা নিয়ে প্রশাসন উদ্বিগ্ন। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে মোট ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মার্কিন জনগণ এমনিতেই এই যুদ্ধের বিপক্ষে, তার ওপর সেনা নিহতের ঘটনা জনসমর্থনকে আরও তলানিতে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাম্প একটি ‘বড় ধরনের হামলার’ কথা বিবেচনা করলেও, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠার ঝুঁকি এবং স্থলসেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাপক জনবিরোধিতা থাকায় তিনি দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। এছাড়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোর বিষয়ে অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালন প্রতি গ্যাসের দাম ৪ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। শুরুতে ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ মতো বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি শুধু হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার মতো কোনো চুক্তিতে রাজি হয়ে যুদ্ধ থেকে সরে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

মার্কিন কংগ্রেসও এই যুদ্ধ নিয়ে তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়ে সোচ্চার হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার জন্য প্রস্তাব পাসের চেষ্টা করছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ন্যান্সি মেস এবং লিসা মারকোস্কি প্রশাসনের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের কড়া সমালোচনা করেছেন। রাজনৈতিক চাপ, সেনা মৃত্যু, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং কংগ্রেসের সম্ভাব্য বিরোধিতার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন এখন যুদ্ধ নিয়ে এক চরম জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি।
 

সূত্র: সিএনএন

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন