আন্তর্জাতিক

ইরানিদের জন্য নিজেদের সঞ্চয় দান করছেন কাশ্মিরের মানুষ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে কাশ্মীর অঞ্চলে বিরল এক মানবিক সহায়তার ঢল নেমেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা ইরানিদের পাশে দাঁড়াতে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চিত অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, এমনকি শিশুদের জমানো মাটির ব্যাংক ভেঙেও অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন। অনেক পরিবার ঘরোয়া উৎসবের খরচ কমিয়ে নগদ অর্থ, গৃহস্থালি সামগ্রী, গবাদিপশু, সাইকেলসহ জীবনজীবিকার নানা উপকরণ দান করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, এই অভাবনীয় সহায়তা কেবল আর্থিক দান নয়, বরং পারস্যের সঙ্গে কাশ্মীরের শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবেগের প্রতিফলন। ১৪শ শতকে পারস্যের সুফি সাধক মির সাইদ আলী হামদানির মাধ্যমে কাশ্মীরে যে ধর্মীয় চর্চা, শিল্প ও ফার্সি সাহিত্যের প্রসার ঘটেছিল, তার প্রভাবেই অঞ্চলটিকে ঐতিহাসিকভাবে ‘ক্ষুদ্র ইরান’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

 

কাশ্মীরের জনসংখ্যার মাত্র ১০-১৫ শতাংশ শিয়া মুসলিম হলেও ইরানের জন্য এই সাহায্য সংগ্রহে সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও তাদের আয়ের একটি অংশ দান করছেন। বিভিন্ন সূত্রমতে, এই দানের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি রুপি বা ৬৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যার মধ্যে নগদ অর্থের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে। 

 

নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস কাশ্মীরের জনগণের এই নিঃস্বার্থ সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তবে ভারত কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, অননুমোদিতভাবে চাঁদা সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থের অপব্যবহার হতে পারে, তাই দাতা ও সংগ্রহকারীদের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সংহতি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে কাশ্মীরের মানুষের গভীর সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন